প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০১, ২০২৬, ৬:৪১ এ.এম
বিয়ের পাত্র সেজে হত্যাকাণ্ডের রহস্যের সমাধান
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
নরসিংদীর কিশোরী সুমনা আক্তার তিথি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যে কৌশল অবলম্বন করেছে, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। খুনিদের ধরতে গোয়েন্দা পুলিশ পাত্র সেজে অভিনব এক অভিযান পরিচালনা করে, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের পথ প্রশস্ত করে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ জানুয়ারি রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচর গ্রামে ১৩ বছর বয়সী সুমনা আক্তার তিথিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় তিথির মা আসমা আক্তারকেও গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতে ঘর থেকে নগদ টাকা লুট করা হয়েছিল। ঘটনার পর কোনো ক্লু না পাওয়ায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে নিহত তিথির পরিবারের আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে গোয়েন্দারা নজরদারি শুরু করেন। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে উঠে আসে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে পরিচিতরাই জড়িত। একপর্যায়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন, মামলার মূল সন্দেহভাজনরা ফরিদপুরের বোয়ালমারী এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপরই পিবিআই-এর একটি দল ছদ্মবেশ ধারণ করে। তারা পাত্র সেজে ওই এলাকায় একটি বাড়িতে যান এবং অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন দুই সহোদর রমজান আলী (লিমন) ও হাসিবুর রহমান (শান্ত)-এর অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে কাউছার মিয়া ও ইমন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রবাস থেকে পাঠানো টাকার লোভে সুপরিকল্পিতভাবেই এই ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। চার আসামিই ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। পিবিআই নরসিংদীর পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এই মামলাটি প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more