বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের এক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক জোয়ার শুরু হয়েছে, যা বর্তমান অনলাইন পরিবেশকে একটি বড় ‘জনস্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক যৌথ সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে, বর্তমানের ডিজিটাল জগৎ বিশ্বজুড়ে শিশুদের শৈশবকে এক নেতিবাচক উপায়ে ‘পুনরায় প্রোগ্রাম’ বা নতুন রূপ দিচ্ছে। বাণিজ্যিক স্বার্থে তৈরি করা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর এই আগ্রাসন রুখতে বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী দেশ ইতিমধ্যে আইন প্রণয়ন করেছে। যেমন—অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একইভাবে যুক্তরাজ্য ও কানাডা ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্লক করা ও প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘নিরাপদ ডিজাইন’ করতে বাধ্য করার পরিকল্পনা নিয়েছে; যেখানে ফ্রান্স ১৫ বছরের নিচে এবং ইন্দোনেশিয়া ১৬ বছরের নিচে শিশুদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এর পাশাপাশি স্পেন ও আয়ারল্যান্ডও কঠোর ‘বয়স যাচাই’ ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্ক্রিন টাইমকে আর সাধারণ পারিবারিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন না, কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় অতিরিক্ত ডিজিটাল ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের উদ্বেগ, হতাশা, ঘুমের সমস্যা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার স্পষ্ট যোগসূত্র পাওয়া গেছে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকার ফলে একদিকে যেমন শারীরিক কার্যকলাপ কমে গিয়ে অসংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে জেনারেটিভ এআই-এর অপব্যবহার, সাইবার বুলিং ও ফেক কনটেন্টের কারণে শিশুরা অনলাইন যৌন শোষণ ও গভীর মানসিক ট্রমার মুখোমুখি হচ্ছে। মূলত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি যা শিশুদের আসক্ত করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে আটকে রাখে এবং সঠিক তথ্যের চেয়ে উগ্র কনটেন্টকে বেশি প্রচার করে বাস্তব জীবনের সামাজিক সম্পর্ককে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্বনেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ছোটখাটো পরিবর্তনে আর কাজ হবে না। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই তাদের প্ল্যাটফর্ম ‘বয়স-উপযোগী’ করে নতুনভাবে ডিজাইন করতে হবে এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যবান্ধব ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে এই আইনি কড়াকড়ি আরও জোরালো করতে হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more