প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৪, ২০২৬, ৬:৪৫ এ.এম
এক ভিন্ন আবহে খামেনির শেষ বিদায়
অ-অ+
অনলাইন
ডেস্ক: যুদ্ধবিরতির আবহের মধ্যেই এক অভূতপূর্ব ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ইরান শাসন করা এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে জড়ো হয়েছেন লাখো মানুষ। তবে এই বিশাল শোকাঞ্জলি অনুষ্ঠানটি কেবলই ধর্মীয় আচার বা বিদায়লগ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী তিন দিনে কেবল তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির দাফন অনুষ্ঠানের পর এটিই হবে ইরানের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাবেশ। সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি তেহরানের সড়কগুলোকে স্থবির করে দিয়েছে। এই শোকানুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির ছেলে তথা বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি নিজেই এই আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। সম্প্রতি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাঁকে হত্যার সরাসরি হুমকি দেওয়ার পর এই চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানের আকাশপথ আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সড়কগুলোতে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজিরবিহীন পাহারা বসানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। সাধারণত ইসলামি রীতি অনুযায়ী দ্রুত দাফন করার নিয়ম থাকলেও, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দীর্ঘ চার মাস এই প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। সম্প্রতি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় অবশেষে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এই শোকানুষ্ঠানটি তেহরানের জন্য এক বড় ধরনের কূটনৈতিক শক্তির মহড়াও বটে। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজসহ চীন, ভারত ও বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি পশ্চিমা বিশ্বের কাছে ইরানের অক্ষশক্তির অক্ষুণ্ণ থাকার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। সাত দিনব্যাপী এই আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে আগামী সোমবার খামেনির মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে আগামী শুক্রবার তাঁর জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more