প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৬, ২০২৬, ২:০৮ পি.এম
পাবনায় পুলিশের ওপর গ্রামবাসীর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পাবনার সুজানগর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে পুলিশি অভিযান এবং পরবর্তীতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হামলায় সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আটককৃতদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাতে মথুরাপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দারা বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন। খেলা শেষে স্থানীয় যুবকেরা একটি প্রীতিভোজের (খিচুড়ি খাওয়া) আয়োজন করে।
এদিকে, পুলিশের দাবি—খেলার এই জমায়েতকে কাজে লাগিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুজানগর থানা পুলিশের দুটি টহল দল রাতে মথুরাপুর গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানকালে পুলিশ সেখান থেকে ৮-১০ জনকে আটক করে।
উত্তেজনা ও হামলা: পুলিশের এই আকস্মিক অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সাধারণ মানুষ আটককৃতদের নির্দোষ দাবি করে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু পুলিশ তাদের ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে গ্রামের একাধিক মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা দেওয়া হয়। মাইকিংয়ের পর মুহূর্তের মধ্যে শত শত গ্রামবাসী (যার মধ্যে নারী ও সাধারণ মানুষও ছিলেন) লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করেন। গণপ্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা আটককৃতদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলায় সুজানগর থানার ওসি ও একজন কনস্টেবল আহত হন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্য: পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাবের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন এবং আটক আসামিদের ছিনিয়ে নিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব। তিনি দাবি করেন, "গ্রেপ্তার আতঙ্কে আমি দীর্ঘদিন ধরে জেলার বাইরে অবস্থান করছি। পুলিশের ভয়ে আমি নিজের এলাকাতেই যেতে পারছি না, সেখানে হামলায় অংশ নেওয়া তো অবান্তর। আমি যতটুকু জেনেছি, গ্রামের ছেলেরা খেলা দেখে খিচুড়ি খাচ্ছিল। পুলিশ অন্যায়ভাবে ১০-১২ জনকে আটক করায় উত্তেজিত হয়ে সাধারণ গ্রামবাসী ও নারীরা ঘর থেকে বের হয়ে এসে তাদের ছাড়িয়ে নিয়েছেন।"
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য: পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলায় ওসিসহ পুলিশের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন এবং তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ব্যাপারে দ্রুতই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more