ডিজিটাল মরীচিকা: স্ক্রিনের ওপারে নিঃস্ব হওয়া তরুণের দল
Date: 2026-07-17
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১:২৪ পি.এম
ডিজিটাল মরীচিকা: স্ক্রিনের ওপারে নিঃস্ব হওয়া তরুণের দল
অ-অ+
বিশেষ প্রতিবেদন| বিডিফেস ২৪:
আমরা এমন এক প্রযুক্তিনির্ভর যুগে বাস করছি, যেখানে সাফল্যের সংজ্ঞা বদলে গেছে সেকেন্ডের ব্যবধানে। হাতের মুঠোয় থাকা একটি কাঁচের স্ক্রিন এখন আর কেবল যোগাযোগের সাধারণ মাধ্যম নয়; এটি হয়ে উঠেছে এক অদৃশ্য উপার্জনের মায়াজাল। বিজ্ঞাপনের চটকদার রঙে আর চতুর প্রচারণায় আমাদের তরুণদের মগজে প্রতিনিয়ত গেঁথে দেওয়া হচ্ছে এক বিপজ্জনক মন্ত্র—শ্রম নয়, ভাগ্যই শেষ কথা। পরিশ্রমহীন রাতারাতি ধনী হওয়ার এই তীব্র প্রলোভন আমাদের তরুণ সমাজকে এক অন্ধকার চোরাবালির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির রহস্যময় দুনিয়া আর অনলাইন জুয়ার রঙিন আসর আজকের যুবসমাজের কাছে যেন এক আধুনিক সোনার হরিণ।
বিডিফেস ২৪ ডটকম (bdface24.com)-এর বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠার মতো বাস্তবতা—কীভাবে এই সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশের হাজারো তাজা প্রাণ তলিয়ে যাচ্ছে এক অতল গহ্বরে, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ বড্ড সংকীর্ণ।
সহজ পথে অর্থ উপার্জনের মোহ মানুষের চিরন্তন এক মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা। ক্রিপ্টোকারেন্সি—যার পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই, যা মূলত চলে কেবলই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে—তা হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির তরুণের মরণনেশা। আর এর সমান্তরালে বিষাক্ত লতার মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন ক্যাসিনো ও বেটিং সাইটগুলো। এক ক্লিকেই ভাগ্য পরিবর্তনের এই খেলা আসলে এক পরিকল্পিত ফাঁদ। প্রথমবার জয়ের এক চিলতে আনন্দ যেখানে পরবর্তী একশো বারের পরাজয় আর দেনার নিঃশব্দ কান্নার জন্ম দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নিল তরুণ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানটি পড়াশোনা কিংবা স্বাভাবিক ক্যারিয়ারের চিন্তা বাদ দিয়ে বুঁদ হয়ে থাকছে ডিজিটাল ক্যাসিনোর স্ক্রিনে। টিউশনির টাকা, বাবার সারাজীবনের সঞ্চয় কিংবা মায়ের শেষ সম্বল সোনার গয়না বন্ধক রাখা অর্থ নিমেষেই হারিয়ে যাচ্ছে জুয়ার বোর্ডে। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে তারা কেবল নিজেদেরই ধ্বংস করছে না, বরং নিজের পরিবারের বুকেও এঁকে দিচ্ছে গভীর এক ক্ষত।
এই হাহাকার কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আমাদের ঘরে ঘরে ডানা মেলা এক নীরব সামাজিক মহামারী। মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, অনলাইন জুয়া এবং এই ভার্চুয়াল অর্থ উপার্জনের আসক্তি সাধারণ মাদকের চেয়েও মারাত্মক। কারণ এটি মানুষের মস্তিষ্কে এক ধরনের ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণ ঘটায়, যা তাকে বারবার হেরে যাওয়ার পরও পুনরায় একই ভুল করতে প্ররোচিত করে। সামাজিকভাবে এর ক্ষতিকর প্রভাব আজ স্পষ্ট—পারিবারিক কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি এবং শেষ পর্যন্ত চরম হতাশা থেকে তরুণদের আত্মহননের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই মরণনেশা। রাত ফুরোলে যেমন মরীচিকার আলো ফিকে হয়ে আসে, তেমনই সময়ের দাবি—এই কৃত্রিম আলোর মোহ থেকে আমাদের তরুণদের ফিরিয়ে আনা। জীবন কোনো জুয়ার বোর্ড নয়, যেখানে সব হারিয়ে শেষ দান চালতে হবে। মেধা, শ্রম আর নিয়মতান্ত্রিক ধৈর্যই জীবন গড়ার একমাত্র কারিগর। রাষ্ট্রীয় কঠোর নজরদারি, পারিবারিক অনুশাসন আর সামাজিক সচেতনতার মেলবন্ধনে এখনই সময় আমাদের যুবসমাজকে এই চোরাবালি থেকে টেনে তোলার। প্রযুক্তির আলো যেন আমাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে না যায়, বরং সুস্থ ও সুন্দর এক সম্ভাবনার পথ দেখায়—বিডিফেস ২৪ ডটকম-এর মাধ্যমে আজ আমাদের এটাই হোক মূল অঙ্গীকার।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more