প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ১৮, ২০২৬, ৬:৫৯ এ.এম
নিয়ম মেনে খান মৌসুমি ফল আম
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: গ্রীষ্মকালজুড়ে বাজারে মিলছে নানা জাতের
রসালো আম। তবে ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকেই প্রিয় এই ফল খেতে দ্বিধায় থাকেন।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক নিয়ম মেনে খেলে আম শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং পুষ্টিকর খাদ্য
হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমকে অতিরিক্ত খাবার
হিসেবে না খেয়ে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাত বা রুটির একটি অংশের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ
করলে ক্যালরি ও শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের
সিনিয়র পুষ্টি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “অনেকে মনে করেন আম খেলে ওজন দ্রুত
বেড়ে যায়। বাস্তবে পরিমাণ অনুযায়ী তুলনা করলে দেখা যায়, আমে ক্যালরি ও শর্করার পরিমাণ
অনেক ক্ষেত্রে ভাতের চেয়ে কম হতে পারে। পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ
ও খাদ্যআঁশ।” পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম
সেদ্ধ সাদা ভাতে প্রায় ১২৫ ক্যালরি ও ২৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। একই পরিমাণ পাকা
আমে থাকে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ক্যালরি এবং ১৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট। এছাড়া আমে থাকা খাদ্যআঁশ
হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আম খাওয়ার
সময় ভাত, রুটি বা মুড়ির মতো অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত খাবার কমিয়ে দেওয়া উচিত। বিশেষ করে
ভাতের পর আম খাওয়া বা আম-দুধ মিশিয়ে ভারী খাবার গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত শর্করা প্রবেশ
করতে পারে। এছাড়া আমের জুস বা স্মুদি তৈরির পরিবর্তে
সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ফল চিবিয়ে খেলে এর প্রাকৃতিক আঁশ
অক্ষুণ্ন থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া রোধে সহায়ক। আম খাওয়ার উপযুক্ত সময় হিসেবে সকালের
নাস্তা বা দুপুরের মাঝামাঝি সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। সন্ধ্যার পর বা রাতে
বেশি পরিমাণ আম খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য
নয়। যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই অথবা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ রয়েছে, তাদের আম খাওয়ার
আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিমাণে
এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আম খেলে ওজন বা রক্তে শর্করা নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন
হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং মৌসুমি এই ফল শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণে কার্যকর
ভূমিকা রাখতে পারে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more