বাউফলে বৃদ্ধের রগ ও আঙ্গুল কেটে ফেলার অভিযোগ

Date: 2026-05-12
news-banner

বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালীর বাউফলে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন ও রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদি গ্রামের ফকির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম আবদুল বারেক ফকির (৬০)।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আবদুল বারেক ফকির বাড়ির বাগান থেকে একটি কলাগাছ কাটছিলেন। এসময় প্রতিবেশী বাবুল ফকিরের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে জান্নাত তাকে বাধা দিতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বারেক ফকির লাঠি দিয়ে জান্নাতকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে জান্নাতের বাবা বাবুল ফকির ঘর থেকে দা নিয়ে এসে বারেক ফকিরকে লক্ষ্য করে কোপ দেন। আত্মরক্ষার্থে বারেক হাত দিয়ে কোপ ঠেকাতে গেলে তার বাম হাতের তর্জনী আঙুলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং হাতের বেশ কয়েকটি রগ কেটে মারাত্মক জখম হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইরফান জানান:
"আহত ব্যক্তির বাম হাতের তর্জনী বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি রগ গভীরভাবে কেটে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।"
আহত বারেক ফকিরের ছেলে মো. নাসির উদ্দিন এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা দাবি করে বলেন, "আমরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কোপানো হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই।"
অন্যদিকে অভিযুক্ত বাবুল ফকিরের স্ত্রী আমেনা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "আমার অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। বাবা হিসেবে এটি সহ্য করতে না পেরে আমার স্বামী রাগের মাথায় এই কাজ করে ফেলেছেন।"
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্ত বাবুল ফকির ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

NTTuHcm.jpeg

Leave Your Comments