প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ১৭, ২০২৬, ৬:৪৪ এ.এম
তাবাচ্ছুম হত্যা মামলার দ্রুততম বিচারের পথে
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঝিনাইদহের
কালীগঞ্জের ৪ বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে এক
অভূতপূর্ব গতি লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় ঘটনার মাত্র সাড়ে তিন মাসের
(১১০ দিন) মাথায় গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেছেন আদালত। আজ
বুধবার থেকেই এই স্পর্শকাতর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। ঝিনাইদহ আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোক্তার
হোসেন এই দ্রুত অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও
কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক
সালেহুজ্জামানের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর গতকাল মঙ্গলবার সরকার পক্ষের পিপি
অ্যাডভোকেট আকিলুল ইসলাম এবং রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট তরিকুল আলমের
উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের ভাড়াটিয়া এবং একটি সিগারেট কোম্পানির
বিক্রয় প্রতিনিধি আবু তাহের (নিহত শিশুর প্রতিবেশী) চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে
শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।
তাবাচ্ছুম যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে খুনি নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে,
যার ফলে দম আটকে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই তাবাচ্ছুমের
মরদেহ বস্তাবন্দি করে পাশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পর খুনি কুষ্টিয়ায় তার ভাইয়ের বাসায় পালিয়ে গেলেও পুলিশ একই রাতেই অভিযান চালিয়ে
তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই আসামি আবু তাহের নিজের অপরাধের
কথা স্বীকার করে। নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম
একজন দর্জি দোকানের কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। একমাত্র
কন্যাসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর এই দম্পতির এখন একটাই চাওয়া। তারা মাননীয় আদালতের কাছে
খুনি আবু তাহেরের দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিতের এই উদ্যোগকে
সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহলও। আজ থেকে শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে
মামলাটি দ্রুত রায়ের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more