সম্পদে নারীর অধিকার: ইসলামে ন্যায্যতা ও বাস্তবতার প্রেক্ষাপট
Date: 2026-07-18
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১:৪৭ এ.এম
সম্পদে নারীর অধিকার: ইসলামে ন্যায্যতা ও বাস্তবতার প্রেক্ষাপট
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
সমকালীন বিশ্বের অনেক সমাজব্যবস্থায় যখন নারীর সম্পত্তির অধিকার কল্পনাতীত ছিল, তখন ইসলাম নারীর জন্য উত্তরাধিকার সম্পদে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী অংশ নিশ্চিত করে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই বিধান মানুষের তৈরি কোনো নিয়ম নয়, বরং মহান আল্লাহর নির্ধারিত অলঙ্ঘনীয় আইন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা, সামাজিক প্রভাব কিংবা লোকলজ্জার কারণে আমাদের সমাজে আজও অনেক নারী পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাক-ইসলামী আরব্য জাহেলি সমাজে উত্তরাধিকার কেবল শক্তিশালীদের একচেটিয়া অধিকার ছিল। সেখানে নারী, শিশু ও দুর্বলদের কোনো স্থান ছিল না; এমনকি স্ত্রীকে মৃত স্বামীর সম্পদের অংশ হিসেবে গণ্য করা হতো। এই চরম অবমাননাকর অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৭ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়—পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষের যেমন অংশ রয়েছে, তেমনি নারীরও নির্ধারিত অংশ রয়েছে; সম্পদ কম হোক বা বেশি। এই যুগান্তকারী ঘোষণার মাধ্যমে নারীকে উত্তরাধিকারের স্বতন্ত্র ও অলঙ্ঘনীয় অধিকার দেওয়া হয়।
ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১১, ১২ এবং ১৭৬ নম্বর আয়াতে মা, স্ত্রী, কন্যা ও বোনের প্রাপ্য অংশ সুনির্দিষ্টভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। যেমন—কন্যা সন্তান একা হলে সম্পত্তির অর্ধেক এবং দুই বা ততোধিক হলে দুই-তৃতীয়াংশ পাবেন। একইভাবে মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মা এক-ষষ্ঠাংশ এবং সন্তান না থাকলে এক-তৃতীয়াংশ পাবেন। আবার স্ত্রীর ক্ষেত্রে, স্বামীর সন্তান না থাকলে তিনি এক-চতুর্থাংশ এবং সন্তান থাকলে এক-অষ্টমাংশ সম্পত্তির মালিক হবেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীর এই ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত।
সমাজে একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে, ইসলামে নারী সর্বদাই পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পেয়ে থাকে। কিন্তু কোরআনের আইন গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ধারণাটি সঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে নারী পুরুষের অর্ধেক পেলেও, এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে নারী ও পুরুষ সমান অংশ লাভ করেন। উদাহরণস্বরূপ—মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার মা ও বাবা উভয়েই সমান হারে অর্থাৎ এক-ষষ্ঠাংশ করে সম্পত্তি পেয়ে থাকেন।
মূলত, ইসলামে নারী ও পুরুষের উত্তরাধিকারের এই তারতম্য মর্যাদার ভিত্তিতে নয়, বরং পারিবারিক ও আর্থিক দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, পরিবারের ভরণপোষণ, স্ত্রী-সন্তানের ব্যয়ভার বহন এবং দেনমোহর প্রদানের মতো সমস্ত আর্থিক দায়িত্ব এককভাবে পুরুষের ওপর অর্পিত। পক্ষান্তরে, নারীর নিজস্ব বা ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর অন্য কারও অধিকার নেই এবং এর কোনো অংশ সংসারে ব্যয় করা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ফলে, পুরুষের ওপর অর্পিত সামগ্রিক আর্থিক দায়ের বিষয়টি বিবেচনা করেই উত্তরাধিকারের এই ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন নিশ্চিত করেছে ইসলাম।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more