বাউফলে ১১ দরিদ্র পরিবারকে ছাগল বিতরণ করলেন এমপি মাসুদ
Date: 2026-07-18
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ৮:২১ এ.এম
বাউফলে ১১ দরিদ্র পরিবারকে ছাগল বিতরণ করলেন এমপি মাসুদ
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে যাকাত ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যাকাতভিত্তিক স্বাবলম্বী কর্মসূচির আওতায় ১১টি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নওমালা নগরের হাটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের হাতে এই উপহার তুলে দেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, "যাকাত শুধু সাধারণ দান নয়; এটি ইসলামের একটি ফরজ বিধান এবং একটি কার্যকর মানবিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সমাজের বিত্তবানরা যদি সঠিকভাবে যাকাত আদায় করেন, তবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে সমাজে দারিদ্র্য বিমোচন ও একটি বৈষম্যহীন, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।"
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামীতেও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ইনশাল্লাহ।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সহিদুল ইসলাম মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যাকাত ফাউন্ডেশনের এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সুবিধাভোগীরা। নওমালার ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোনাজান (৬০) তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "এই বয়সে এসে ছাগলগুলো পেয়ে আমার খুব উপকার হলো। এগুলো লালন-পালন করে এখন আমি একটু ভালোভাবে চলতে পারব।"
একই অনুভূতি প্রকাশ করে নওমালার ৪ নং ওয়ার্ডের বটকাজল এলাকার আসমা খাতুন (৩৫) বলেন, "সংসার চালাতে আমাদের খুব কষ্ট হতো। এই সহায়তার কারণে আমাদের আয়ের একটা নতুন পথ তৈরি হলো। আমরা অনেক কৃতজ্ঞ।"
নওমালা ইউনিয়নের আবদুর রহিম (৬০) বলেন, "আমাদের মতো গরিব মানুষের পাশে এভাবে দাঁড়ানোয় ড. মাসুদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এই ছাগলগুলো দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটা বড় অবলম্বন পেলাম।" এদিকে, যাকাতভিত্তিক এই স্বাবলম্বী কর্মসূচিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এলাকার শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তাবিদদের মতে, কেবল সাময়িক ত্রাণ বা আর্থিক সাহায্য না দিয়ে প্রান্তিক পরিবারগুলোকে উৎপাদনশীল উপায়ের সাথে যুক্ত করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তবে এই ছাগলগুলো যাতে সঠিকভাবে লালন-পালন করা যায় এবং এর মাধ্যমে পরিবারগুলো সত্যিকার অর্থেই দারিদ্র্যের বৃত্ত থেকে বের হতে পারে, সেজন্য নিয়মিত তদারকি ও চিকিৎসার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর রাখা প্রয়োজন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more