শেখ হাসিনার চলে যাওয়া অলৌকিক মনে হচ্ছিল: মির্জা ফখরুল
Date: 2026-08-03
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৩, ২০২৬, ৬:১৯ এ.এম
শেখ হাসিনার চলে যাওয়া অলৌকিক মনে হচ্ছিল: মির্জা ফখরুল
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রথম আলোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তৎকালীন প্রেক্ষাপট, সেনাসদরের বৈঠক, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক চিত্র নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল জানান, সেদিন সকাল ১১টার পর সেনাপ্রধানের বার্তা পেয়ে তিনি বাসায় অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে সেনাপ্রধানের সরাসরি ফোনের পর সেনাবাহিনীর পাঠানো গাড়িতে মির্জা আব্বাসসহ তিনি সেনাসদরে যান। সেনা কার্যালয়ে যাওয়ার আগে ও বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর—প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁরা লন্ডনে অবস্থানরত দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্তের রূপরেখা তৈরি করেন। সেনাসদরের বৈঠকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের আলোচনা উঠলেও, বিএনপির পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের জোর দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন। বঙ্গভবনে আলোচনার শুরুতেই বিএনপির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার দাবি জানানো হলে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান তাতে একমত হন। একই বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
আন্দোলনের কৌশল ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ৩৬ দিনের তীব্র আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বিএনপির সার্বক্ষণিক গোপন যোগাযোগ ছিল। নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলমসহ অন্যান্য সমন্বয়কেরা একাধিকবার তাঁর বাসায় বৈঠক করেছেন। এমনকি 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি ৬ আগস্টের বদলে এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করার ক্ষেত্রেও তিনি বার্তা পাঠিয়ে ভূমিকা রাখেন। গণ-অভ্যুত্থানে দলটির নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ ও শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তারেক রহমানের সার্বক্ষণিক নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজপথে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত করেছে।
অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে দেশের সার্বিক অর্জন ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে মির্জা ফখরুল জানান, ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া শাসনব্যবস্থাকে রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারবিভাগ ও প্রশাসনে মেধাভিত্তিক ও নিরপেক্ষ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। নিয়োগ ও ঠিকাদারির পুরনো চর্চা বদলাতে আইনি সংস্কার চলছে। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরকে ভিকটিমাইজ করা বা ধ্বংস করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। দেশে স্থায়ী শান্তি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় সমঝোতা’ (National Reconciliation) ছাড়া বিকল্প নেই। পাশাপাশি দেশে উগ্রবাদ ও ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন তৈরির যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more