প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৩, ২০২৬, ৭:০২ এ.এম
ইতালির আশ্বাসে লিবিয়ায় জিম্মি ও নির্যাতন
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ইউরোপে উন্নত ভবিষ্যতের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি ও অমানুষিক নির্যাতন এবং নির্যাতনের দৃশ্য পরিবারকে পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকার মুক্তিপণ আদায়—এমনই এক আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত পাঁচ বছরে কেবল একটি চক্রই ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ ও হুন্ডির মাধ্যমে ৩৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি লেনদেন করেছে। এই অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে নড়াইল, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার চক্রের সদস্যরা গড়ে তুলেছেন আলিশান দোতলা বাড়ি, গরুর খামার, বিলাসবহুল গাড়ি ও অঢেল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ।
নড়াইল জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে টাঁকির খালের পাড়ে তাকালেই চোখে পড়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি দৃষ্টিনন্দন দোতলা বাড়ি। এর একটি পাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা আলাউদ্দিন শেখের, অন্যটি তাঁর সহযোগী আওয়াল ফরাজীর। অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময় কৃষিকাজ করে সংসার চালানো পরিবারের সন্তান আলাউদ্দিন ১২ বছর আগে লিবিয়ায় যান। পরে আওয়াল ফরাজী ও তাঁর ভাইদের সঙ্গে মিলে গড়ে তোলেন শক্তিশালী পাচার নেটওয়ার্ক। লিবিয়া থেকে বন্দিদের নির্যাতনের ভিডিও বাংলাদেশে পাঠানো হলে স্বজনেরা বাধ্য হয়ে দেশে পাচারকারীদের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ জমা দিতেন। সেই টাকায় গড়ে উঠেছে বিশালাকার গরুর খামার, কেনা হয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি ও জমি।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গত পাঁচ বছরে এই চক্রটি অন্তত ১১৪টি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ৩৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি লেনদেন করেছে এবং দেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত অন্তত ১১টি জেলায়। তদন্তে দেখা গেছে, সন্দেহ এড়াতে পাচারকারীরা আত্মীয়স্বজন ছাড়াও স্থানীয় গৃহিণী, মুদিদোকানি ও ওষুধ বিক্রেতাদের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করত, যেখানে প্রতি লাখ টাকা লেনদেনের বিপরীতে তাদের ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন দেওয়া হতো।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল সিআইডি বাদী হয়ে আলাউদ্দিন শেখ, আওয়াল ফরাজীসহ চক্রের ৩৪ জন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। চক্রের এক সদস্য রাব্বানী ফরাজীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে আওয়াল ফরাজীসহ অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন শেখ দাবি করেন যে তিনি লিবিয়ায় বড় চাকরি ও ঠিকাদারি করতেন এবং সেই উপার্জনের টাকায় সম্পদ গড়েছেন। তবে সিআইডি জানায়, এটি পুরোপুরি মানব পাচার ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ বাছির উদ্দিন জানান, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় ও হুন্ডি কারবারে জড়িত এ চক্রটির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আসামিদের অবৈধ সম্পদের বিস্তারিত অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more