স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক: প্রশান্তি ও ভালোবাসার অনন্য নিদর্শন

Date: 2026-01-23
news-banner

অনলাইন ডেক্স:

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ইসলাম মানবজীবনের অন্যতম প্রশান্তির উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এই সম্পর্ককে তাঁর অপার রহমতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন” (সুরা রুম : ২১)।

মানুষ দুনিয়াজুড়ে সুখের সন্ধানে ছুটে বেড়ালেও প্রকৃত সুখের ঠিকানা জান্নাত। তবে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় সাময়িক সুখ ও মানসিক প্রশান্তির বড় মাধ্যম হলো স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতা। জীবনের দুঃখ-বেদনা ও হতাশার মুহূর্তগুলোতে এই সম্পর্ক মানুষকে মানসিক শক্তি জোগায়।

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেবল দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পারস্পরিক ভালোবাসা, যত্ন ও আনন্দ দেওয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে আহার তুলে দাও, তাতেও সদকার সওয়াব রয়েছে” (বুখারি)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ জীবনে স্ত্রীদের আনন্দ দেওয়ার মাধ্যমে এই শিক্ষার বাস্তব উদাহরণ রেখে গেছেন। তিনি হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, ভালোবাসাসূচক নামে ডেকেছেন এবং আদরের উপনাম দিয়েছেন। তিনি আয়েশা (রা.)-কে সংক্ষেপে ‘আয়িশ’ এবং স্নেহভরে ‘হুমায়রা’ বলে ডাকতেন, যা দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা প্রকাশের সুন্দর দৃষ্টান্ত।

এমনকি আয়েশা (রা.)-এর অনুরোধে তিনি তাঁর জন্য উপনামও নির্ধারণ করেন-‘উম্মে আব্দুল্লাহ’। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, দাম্পত্য জীবনে স্নেহ, সম্মান ও মানসিক যত্ন ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলেমরা বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সুন্দর ও মধুর রাখতে ইসলামের বিধান মেনে চলার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এসব সুন্নত অনুসরণ করা জরুরি।


তথ্য-কালেরকন্ঠ/এম ডিউক

Leave Your Comments