নতুন আতংক হান্টাভাইরাস, উদ্বেগে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ
Date: 2026-05-10
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: আর্জেন্টিনা-তে
গত এক বছরে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের
তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ ছাড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি আরও
উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন একটি ক্রুজ জাহাজে ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। এমভি হন্ডিয়াস
নামের জাহাজটিতে ভ্রমণ করা এক ডাচ দম্পতি হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর
তাদের ভ্রমণপথ অনুসন্ধান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। জাহাজটি ১ এপ্রিল দক্ষিণাঞ্চলের উশুয়াইয়া
বন্দর থেকে যাত্রা করে এবং বর্তমানে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ-এর পথে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের
মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণেই ভাইরাসটির বিস্তার বাড়ছে।
সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মূত্র, লালা বা বিষ্ঠার মাধ্যমে হান্টাভাইরাস ছড়ায়। তবে কিছু
ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে মানুষ থেকেও মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে
পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
তথ্যমতে, গত মৌসুমে একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৭। এবার শুধু সংক্রমণই নয়, মৃত্যুহারও
উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও ক্রুজ জাহাজে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের তথ্য এখনো সরকারি
পরিসংখ্যানে যুক্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে,
আক্রান্ত ডাচ দম্পতি চিলি ও উরুগুয়ে-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন। তাদের সফরসূচিতে
মিসিওনেস ও নেউকেনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও ছিল। সংক্রামক রোগ
বিশেষজ্ঞ এদুয়ার্দো লোপেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ইঁদুর সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে
পারছে, ফলে নতুন নতুন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে লাতিন
আমেরিকান সোসাইটি অব ভ্যাকসিনোলজি-এর সহসভাপতি রবার্তো ডেবাগ জানান, বন আগুন ও পরিবেশ
ধ্বংসের কারণে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বদলে যাচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। এদিকে নতুন
মহামারির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়-এর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা
বিশেষজ্ঞ ড. শার্লট হ্যামার বলেন, হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা কোভিড-১৯-এর মতো নয়
এবং এটি সহজে ব্যাপকভাবে মানুষে ছড়ায় না। একই ধরনের আশ্বাস
দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। তিনি বলেছেন,
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বর্তমানে জাহাজে কোনো উপসর্গযুক্ত যাত্রী
নেই।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more