প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৯, ২০২৬, ৫:০৯ এ.এম
মতিঝিলে চাঁদাবাজ চক্রের মূলহোতা শ্যুটার গ্রেপ্তার
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীর মতিঝিল ও কমলাপুর এলাকায় চাঁদাবাজি এবং ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা কুখ্যাত সন্ত্রাসী তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বাপ্পিসহ তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পুলিশের মতিঝিল বিভাগ একটি বড় অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি। গ্রেপ্তার হওয়া বাপ্পির অন্য চার সহযোগী হলেন—মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদারের অফিসে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। এর আগে ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। টানা কয়েক দিন আত্মগোপনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়েন তারা।
শুক্রবার সকালে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাপ্পি ও তার তিন সহযোগীকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কমলাপুরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় রিজনকে। এরপর ১৭ জুলাই দিনগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির নিজস্ব অফিসে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি ধারালো চাইনিজ কুড়াল।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। মতিঝিলের বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ওপর নজর রেখে নিয়মিত চাঁদা আদায় করাই ছিল এই চক্রের মূল পেশা। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আতঙ্কিত ব্যবসায়ীদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মতিঝিল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more