ফুটবল বিধাতা যেন সংখ্যা দিয়ে চিত্রনাট্য লেখেন—২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে এই কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। ফুটবল ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে থাকা এই তরুণ তুর্কির জীবন ও বিশ্বকাপ ফাইনালের যাত্রায় '১৯' সংখ্যাটি যেন এক জাদুকরী সুতোয় গাঁথা হয়ে আছে। ঠিক ১৯ বছর বয়সে পা রাখা ইয়ামালের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি ছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল, আর সেই ফাইনালের মঞ্চটি সাজানো ছিল ১৯ জুলাই তারিখে। স্পেনের জার্সিতে ইয়ামালের নিজের গায়ে জড়ানো সংখ্যাটিও ছিল ১৯। সংখ্যার এই অদ্ভুত সমাপতন ফুটবল প্রেমীদের মাঝে এক নতুন রহস্য ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
ফাইনালের দিন ইয়ামালের বয়স ছিল ১৯ বছর ৭ দিন, যা তাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ ফাইনালিস্টদের অভিজাত তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। পেলে, জিউসেপ বার্গোমি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো কিংবদন্তিরা যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, ইয়ামালও সেই একই সারিতে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন। অনেকের কাছেই তার ১৯ নম্বর জার্সিটি কিংবদন্তি লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় কাটানো শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। শৈশবে ইয়ামালকে কোলে নেওয়া মেসির সেই বিখ্যাত ছবি এবং বর্তমানের এই বিশ্বজয়ী হওয়ার দৃশ্য যেন এক বৃত্ত পূর্ণ করল।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ইয়ামালের উপস্থিতি ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলটি স্পেনকে তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়, আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ইয়ামাল হয়ে ওঠেন নতুন প্রজন্মের প্রতীক। ১৯ বছর বয়স, ১৯ নম্বর জার্সি এবং ১৯ জুলাই—এই তিনটি বিষয়ের মেলবন্ধন ইয়ামালের এই অর্জনকে কেবল একটি পরিসংখ্যান থেকে সরিয়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার এই অদম্য প্রতিভার স্ফুরণ এবং ভাগ্যের এই অদ্ভূত জাদুকরী ছোঁয়া সামনের দিনগুলোতে স্পেনকে আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more