অনলাইন
ডেক্স:
ভোলা
জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার জেলে বসবাস করেন। এর মধ্যে
সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৩৮ জন। সম্প্রতি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়
মেঘনা নদীতে সশস্ত্র ডাকাত দলের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলেপল্লীতে চরম উদ্বেগ
দেখা দিয়েছে। ধারাবাহিক ডাকাতি, ট্রলারে হামলা ও জেলে অপহরণের ঘটনায় প্রায় ৪০ হাজার
মৎস্যজীবীর জীবন ও জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
জেলেদের
অভিযোগ, রাত নামলেই ডাকাতরা নদীতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অস্ত্রের মুখে ট্রলার থামিয়ে মালামাল
লুটের পাশাপাশি জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণের ভয়ে অধিকাংশ
জেলে সন্ধ্যার পর মাছ ধরতে নদীতে নামতে পারছেন না।
স্থানীয়
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি রাতে হাকিমউদ্দিন মৎস্য ঘাট এলাকায়
তিনটি ট্রলারে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে চার জেলেকে অপহরণ
করা হয়। পরে কয়েক দফায় প্রায় দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তারা ছাড়া পান। এ ঘটনার
পর পুরো নদী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জয়া
গ্রামের জেলে মহিউদ্দিন মাঝি জানান, ডাকাতরা চোখ বেঁধে তাকে ও আরও তিনজনকে মারধর করে।
পরে আড়তদারের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিলে প্রাণে রক্ষা পান। একই রাতের ঘটনায়
অপহৃত অন্য জেলেরাও মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন বলে জানান রাসেল মাঝি।
জেলে
শাহিন মাঝি ও মিজান মাঝির ভাষ্য, বর্তমানে মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে এবং
রাতের বেলাতেই মাছের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু ডাকাতদের ভয়ে তারা রাতে নদীতে যেতে
পারছেন না। পরিবার থেকেও মাছ ধরতে নিষেধ করা হচ্ছে। বিকল্প কোনো কাজ না জানায় চরম সংকটে
পড়েছেন তারা।
স্থানীয়
জেলেরা জানান, সন্ধ্যার পর কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের নিয়মিত টহল থাকলে তারা আবার নিরাপদে
নদীতে নামতে পারবেন। এ বিষয়ে বেলাল মাঝি ও রুহুল আমিন মাঝি টহল জোরদারের দাবি জানান।
এদিকে
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক
ডাকাতির ঘটনার পর মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। ডাকাত চক্র শনাক্তে
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলে ও
মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
তথ্য-
জাগোবিডি/এম ডিউক