প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:৫৫ এ.এম
মাঠের সেই চিরচেনা 'মেসি ম্যাজিক'
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবল যখন আরও বেশি গতিশীল এবং শারীরিক শক্তির খেলায় রূপ নিয়েছে, তখন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সমীকরণ মেলাচ্ছেন। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে ছুটির অলস বিকেলে কোনো পার্কে হাঁটছেন তিনি। কিন্তু বল পায়ে পেলেই সেকেন্ডের ভগ্নাংশে বদলে যাচ্ছে ম্যাচের চিত্র। এবারের বিশ্বকাপেও মাঠজুড়ে মেসির এই অলস ভঙ্গিতে হাঁটা এবং সময়মতো জ্বলে ওঠার কৌশল ফুটবল দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরিসংখ্যানে মেসির 'হাঁটা'র রহস্য ফিফার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বিশ্বকাপে খেলা ৫ ম্যাচে মেসি মোট দৌড়েছেন ৩৫ হাজার ৮৬৮ মিটার। চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই দূরত্বের প্রায় ৬৪ শতাংশই (২২ হাজার ৯৫৮ মিটার) তিনি পার করেছেন 'জোন ওয়ান'-এ। অর্থাৎ, যেখানে গতি থাকে ঘণ্টায় মাত্র ০ থেকে ৭ কিলোমিটার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট ১৫ মিনিটের স্পেলে মেসি মাত্র ৫১ সেকেন্ড দৌড়েছিলেন।
কম পরিশ্রমে সর্বোচ্চ সাফল্য
মাঠে সবচেয়ে কম দৌড়ালেও কার্যকারিতায় সবার ওপরে এই আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। গ্রুপ পর্ব শেষে ৬১৮ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে গোলসংখ্যায় তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। যেখানে হ্যারিকেন (৬০০টি) বা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের (৫১৪টি) মতো তারকারা প্রতি ম্যাচে শত শত 'হাই স্পিড রান' বা তীব্র গতির দৌড় দিচ্ছেন, সেখানে মেসির হাই স্পিড রান মাত্র ২৯৮টি। তবুও সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার অসাধারণ ফুটবলীয় বুদ্ধি (গেম রিডিং) দিয়ে তিনি বাজিমাত করছেন।
সতীর্থদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ মেসির এই কম দৌড়ে ম্যাচ জেতানোর নেপথ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনার বাকি ৯ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের নিঃস্বার্থ পরিশ্রম। সতীর্থরা ভালো করেই জানেন, মেসিকে গোল করার বা সুযোগ তৈরির শক্তি জমিয়ে রাখতে হলে তাদের বাড়তি দৌড়াতে হবে। আর দলের এই যৌথ পরিকল্পনাই আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিচ্ছে। প্রয়োজনে জ্বলে ওঠা সিংহ
তবে মেসি যে কেবল হেঁটেই ম্যাচ পার করে দেন, তা নয়। প্রয়োজন হলে তিনি কতটা ভয়ংকর হতে পারেন, তার প্রমাণ মিলেছে মিসরের বিপক্ষে শেষ ১৬-র ম্যাচে। আর্জেন্টিনা যখন ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে, তখন ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে মেসি যেন খাঁচামুক্ত সিংহ হয়ে ওঠেন। ৭৬ মিনিটের পর থেকে ম্যাচের সবচেয়ে বেশি টাচ, ড্রিবল আর সুযোগ তৈরি করে দলকে উদ্ধার করেন তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ফুটবল অনুরাগীরা আবারও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মেসির সেই চিরচেনা জাদুর—যেখানে তিনি ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ধীর-স্থির ও অপেক্ষায় থাকবেন এবং চোখের পলকে হঠাৎ জীবন্ত হয়ে বদলে দেবেন ম্যাচের ভাগ্য।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more