প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৫, ২০২৬, ৬:১৯ এ.এম
জোড়া ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ ভেনেজুয়েলা
অ-অ+
অনলাইন
ডেস্ক:
লাতিন
আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে পর পর দুটি শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে পুরো দেশ।
রিখটার স্কেলে প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭.৫। এই জোড়া ভূকম্পনে
রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।
ধসে পড়েছে বহু বহুতল ভবন, হাসপাতাল এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ভয়াবহ
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত
প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (টঝএঝ) জানিয়েছে, এই
দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও সুদূরপ্রসারী ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে
মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের ঘর ছুঁতে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। ২৪ জুন
ভেনেজুয়েলায় ঐতিহাসিক স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি সামরিক বিজয় স্মরণে সরকারি ছুটি ছিল।
অধিকাংশ মানুষ যখন ঘরে পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা
৬টার পর) এই বিপর্যয় নেমে আসে। ইউএসজিএস
(টঝএঝ) জানায়, প্রথম ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮
কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ডের মাথায় কারাকাসের পশ্চিমে
ইউমারের কাছে আঘাত হানে আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি। ভূপৃষ্ঠ থেকে
এর গভীরতা কম থাকায় ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। ভূমিকম্পের
তীব্রতায় রাজধানী কারাকাসের আকাশচুম্বী ভবনগুলো ডানে-বামে দুলতে শুরু করে। মুহূর্তের
মধ্যে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বেশ কিছু আবাসিক ভবন। বিবিসির
সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার, যিনি কারাকাসের একটি বহুতল ভবনের ৭ম তলায় আটকা পড়েছিলেন,
তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটি আমার মাথার ওপর ভেঙে পড়বে। জানালাগুলো
চুরমার হয়ে যাচ্ছিল। কোনো রকমে একটি শক্ত পাথরের দেয়ালের পাশে আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচিয়েছি।" আরেক প্রত্যক্ষদর্শী
৫৬ বছর বয়সী কোরো মার্তিনেজ জানান, "প্রথমে একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। এরপর ঘরের
ফ্রিজ, আলমারি এবং ভেতরের জিনিসপত্র সব ছিটকে পড়তে থাকে। ১৯৬৭ সালের পর কারাকাসে এমন
ভয়াবহ ভূমিকম্প আর কেউ দেখেনি।" ভূমিকম্পের
পরপরই ধুলোর আস্তরণে ঢেকে যায় কারাকাসের পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরাসহ ব্যস্ততম এলাকাগুলো।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অন্ধকারে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ফাটল ও ধসের
কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একই সাথে
বন্ধ রয়েছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে শত শত
মানুষ আটকা পড়ে আছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন,
"আমাদের উদ্ধারকারী দল, সিভিল ডিফেন্স এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীরা সর্বোচ্চ
শক্তি দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। ধসে পড়া ভবনগুলো থেকে জীবিতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো
হচ্ছে।" ভূমিকম্পের
পর ক্যারিবীয় অঞ্চলের কিছু অংশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার
করে নেওয়া হয়। তবে মূল কম্পনের পর দফায় দফায় ‘আফটার শক’ বা অনুকম্পন হতে থাকায় আতঙ্কিত
লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে, পার্ক ও রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন। পুরো
লাতিন আমেরিকা জুড়ে এখন কেবলই কান্নার রোল আর স্বজন হারানোর আর্তনাদ।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more