প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৮, ২০২৬, ৫:২৫ এ.এম
ইরানে টানা ৭ম রাতে মার্কিন হামলা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি এখন সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতেও ইরানে তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে টানা সাত রাত মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠল ইরান। তবে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি; পাল্টা জবাব হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট 'হরমুজ প্রণালি' দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করে হরমুজ প্রণালির কাছেই একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন মার্কিন মেরিন সেনারা। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজের দক্ষিণাংশের মাইন পাতা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের এই দাবিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে তেহরান। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ড্রোনের একটি বিশাল মজুতাগার এবং দেশটির প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এছাড়া ভারত মহাসাগরের উত্তরে থাকা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও হামলার দাবি করেছে তারা। এদিকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের এই ড্রোনের বিরুদ্ধে সফল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
ইরানের ভেতরেও মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালি ঘেঁষা উপকূলীয় হরমুজগান প্রদেশে আজ শনিবার ভোরের হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়ে গেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং একটি সড়ক টানেল। এর আগে শুক্রবারের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর খামিরে আরও পাঁচটি সেতু ধ্বংস এবং সাতজন নিহত হন। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানশাহর প্রদেশের একটি বিমানবন্দর এবং বেশ কিছু রেল স্টেশনও মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, "যদি মার্কিন হামলা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকে, তবে আমরা পূর্ণাঙ্গ ও অল-আউট আক্রমণাত্মক অভিযানের পর্যায়ে প্রবেশ করব।" একই সুর মিলিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নগ্ন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে রাসায়নিক সার, এমনকি এক ফোঁটা তেল ও গ্যাসও বিশ্ববাজারে রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ইয়েমেন উপকূলে (বাব আল-মান্দেব প্রণালি) সশস্ত্র ব্যক্তিদের মাধ্যমে আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর—দুই দিক দিয়েই বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে, যা পুরো বিশ্বকে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও সামরিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more