সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি সমঝোতায় না আসে, তবে তাদের অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে অথবা তাদের নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মুখে পড়বে। ফক্স নিউজের এক সাংবাদিককে দেওয়া ফোনালাপে ট্রাম্প এ কথা জানান। তবে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউ ইয়র্কে আগত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত সাত মাস ধরে চললেও ট্রাম্পের বড় সামরিক হামলার হুমকিগুলো এখনও বাস্তবে রূপ নেয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীও মার্কিন হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, নতুন করে কোনো হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশোধমূলক আঘাত হানা হবে এবং ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদেরও এই সংঘাতে পক্ষভুক্ত হিসেবে ধরা হবে। একটি সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে বলেও সামরিক কমান্ড দাবি করেছে। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও ইরান তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার জন্য সাতটি শর্ত বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংকট থেকে বের হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের শর্ত ও অধিকার মেনে নিতে হবে। এছাড়া, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ শত্রুদের পিছু হঠানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। চলমান এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ কোনো পক্ষই ছাড় দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more