প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ৬:০২ এ.এম
ডিমেনশার ঝুঁকি কমানোর ৬ উপায়
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশ বা ‘ডিমেনশা’ হওয়া কোনো অবধারিত নিয়ম নয়, বরং সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব। ডিমেনশা কেবল সাধারণ ভুলে যাওয়ার প্রবণতা নয়; এটি মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, হিসাবনিকাশ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক স্নায়বিক কাজগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিউরোসায়েন্স ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মস্তিষ্কের কোষ তরতাজা রাখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রম ও মানসম্পন্ন ঘুমের মাধ্যমে বয়স বাড়লেও স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখা সম্ভব।
স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমাতে মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে। সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা মস্তিষ্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাই উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, ওজন ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়মে রাখা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, বাদাম, বীজ এবং ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ যুক্ত করা উচিত। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্য-ধারা অনুসরণের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কোষগুলোকে জারণজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যায়। এছাড়া, অন্ত্র ও মস্তিষ্কের নিবিড় সম্পর্কের কারণে অন্ত্রের উপকারী অনুজীবের ভারসাম্য বজায় রাখাও প্রয়োজন, যার জন্য শাকসবজি, ফল ও ডালের মতো আঁশযুক্ত খাবার এবং দইয়ের মতো ফারমেন্টেড খাবার খাওয়া উপকারী।
পাশাপাশি, মস্তিষ্ককে সচল রাখতে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা, বই পড়া, বাদ্যযন্ত্র বা নতুন ভাষা শেখার মতো চিন্তাশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত, যা নিউরোপ্লাস্টিসিটির মাধ্যমে মস্তিষ্কে নতুন স্নায়ু সংযোগ তৈরিতে সহায়তা করে। নিয়মিত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক পরিশ্রম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেন প্রবাহ বাড়িয়ে চিন্তা ও স্মৃতিশক্তিকে উন্নত করে। একইসঙ্গে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার মানসম্পন্ন ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ ঘুম মস্তিষ্কের স্মৃতি সংহত করতে এবং দৈনিক বর্জ্য নিষ্কাশনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
যদিও একক কোনো অভ্যাস ডিমেনশা সম্পূর্ণ প্রতিরোধের শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না, তবে নিয়মিত এসব স্বাস্থ্যকর চর্চা মস্তিষ্কের পাশাপাশি পুরো শরীরকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও স্বনির্ভর রাখতে বিশেষ অবদান রাখে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more