সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে

Date: 2025-11-18
news-banner

অনলাইন ডেক্স:

দেশের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং ঢাকার কাছের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালের দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব বিদেশি দুই প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দুটি পৃথক কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।

দুটি চুক্তি মিলিয়ে বাংলাদেশে বন্দর খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা এবং উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগের ফলে দেশের বাণিজ্য, রপ্তানি প্রতিযোগিতা, লজিস্টিক দক্ষতা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

পানগাঁও টার্মিনাল ও মেডলগ-

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিশ্বখ্যাত লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ আগামী ২২ বছর পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করবে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মেডলগ বাংলাদেশের মধ্যে কনসেশন চুক্তি সই হয়।

চুক্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত সই করেন।

বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত পানগাঁও টার্মিনালকে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মেডলগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টার্মিনালের বার্ষিক হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ লাখ ৬০ হাজার টিইইউতে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি বার্জ, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে মাল্টিমোডাল লজিস্টিক সেবা জোরদার করা হবে, যা আমদানি-রপ্তানি পণ্যের পরিবহন সময় কমিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে।

লালদিয়া টার্মিনাল ও ইউরোপীয় এফডিআই-

একই দিনে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক ইউরোপীয় ইকুইটি বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে। ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস ৩০ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তিতে নিজস্ব অর্থায়নে এই টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।

এ প্রকল্পে প্রাথমিক বিনিয়োগ ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর কনসেশন মেয়াদে মোট বিনিয়োগ ৮০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। সরকারের কোনো ঋণঝুঁকি নেই, বরং সিপিএ রাজস্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে সরাসরি আয় পাবে।

চুক্তির চিঠি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, এপিএম টার্মিনালস এবং তাদের স্থানীয় অংশীদার কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেসের প্রতিনিধিরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন,

চট্টগ্রাম একটি নদী ও ফিডার বন্দর হওয়ায় লজিস্টিক খরচ তুলনামূলক বেশি। প্রতিযোগিতামূলক হতে হলে দ্রুত ও দক্ষ অবকাঠামো প্রয়োজন। লালদিয়া টার্মিনাল সেই ঘাটতি পূরণ করবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন,

দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, রপ্তানিকারকদের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। মেয়ার্স্ক-অভিজ্ঞ অপারেটর এপিএম বাস্তব সমস্যার সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী বলেন, লালদিয়া প্রকল্প দেখিয়ে দিয়েছে-বাংলাদেশে পিপিপি এখন কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার কোনো ঋণ না নিয়েই বিশ্বমানের টার্মিনাল পাচ্ছে।

টার্মিনালটি চালু হলে অতিরিক্ত ৮ লাখ টিইইউ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা তৈরি হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা ৪৪% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র: কালেরকন্ঠ

Leave Your Comments