বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
Date: 2026-09-14
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১:১২ পি.এম
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ছবি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
অ-অ+
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিচয় বদলের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফলে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে একসময় ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ থাকা সাইদুর রহমান নাজমুল এখন নিজেকে যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন মহলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টাও করছেন তিনি।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য, পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়ি পাইকা গ্রামের মৃত ইউসুফ প্যাদার ছেলে সাইদুর রহমান নাজমুল একসময় জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি হাসান শিকদারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি ও সক্রিয়তার কথাও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে।
তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজমুল।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পটুয়াখালী শহর ছেড়ে বাউফলে বসবাস শুরু করেন নাজমুল। সেখানে সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল আলম তালুকদারের বাসার কাছাকাছি এলাকায় বাসা ভাড়া নেওয়ার পর স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাড়তে থাকে।
এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল ও সভায় অংশ নিয়ে নিজেকে যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে।
ছবিতে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, প্রশ্ন পরিচয় নিয়ে অভিযোগকারীদের দাবি, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল আলম তালুকদারের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি নাজমুল ব্যবহার করছেন। এসব ছবি দেখিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাবের জানান দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় কয়েকজনের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে যদি তাঁর কোনো সাংগঠনিক অবস্থান না থাকে, তাহলে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার ধরন কী এবং কীভাবে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় হচ্ছেন?
তবে শুধু ছবি তোলা বা কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার ভিত্তিতে কারও দলীয় পদ বা সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। নাজমুল এসব যোগাযোগ ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিগত বা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন কি না, তারও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সাইদুর রহমান নাজমুলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, “আমি কখনোই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। বর্তমানে যুবদলের সঙ্গেও আমি যুক্ত নই।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বর্তমান কর্মী নন। ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাজমুলের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়ে বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কোনো ব্যক্তির দলীয় পরিচয় পরিবর্তনের দাবি উঠলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের স্থানীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে সাংগঠনিক অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি। অন্যথায় ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা ছবি ব্যবহার করে কেউ দলীয় পরিচয়ের সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
এদিকে নাজমুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি, যুবদল বা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক বক্তব্য বা ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বর্তমান পরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি এখনো স্থানীয় পর্যায়ের দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যেই রয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more