প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ১৭, ২০২৬, ৫:৫২ এ.এম
বিশ্বমঞ্চে অনন্য স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক
মানবিক কূটনীতিতে নতুন এক সাফল্যের পালক
যোগ করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নির্বাহী কমিটির
(এক্সকম) ব্যুরোর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। এর মাধ্যমে শরণার্থী
সুরক্ষা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট
মোকাবিলা সংক্রান্ত বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামের
নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো। জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাহী কমিটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনের ভিত্তিতেই বাংলাদেশের প্রার্থিতা চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। কূটনৈতিক মহলে এই অর্জনকে বাংলাদেশের
আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এক্সকম ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্ব সাধারণত এমন দেশগুলোর হাতে যায়, যাদের মানবিক সংকট মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার
ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে মনোনীত করা হয়। পরে অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর দেশগুলোর সমর্থনও পায় বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞদের
মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। কয়েক বছর ধরে কক্সবাজারে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা, নিরাপত্তা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন প্রশ্নে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে শরণার্থী ও মানবিক বিষয়ক
আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। একই সময়ে মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নে ঘাটতিও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউএনএইচসিআর এক্সকমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের দায়িত্ব হবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা, শরণার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধি করা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদে বাংলাদেশের
উপস্থিতি শুধু একটি সম্মানজনক অর্জন নয়; বরং এটি রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে দেশের কণ্ঠকে আরও শক্তিশালীভাবে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more