প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১১, ২০২৬, ৫:০৩ এ.এম
বিশ্বকাপে ফিফার দ্বৈত নীতি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: চলমান বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও যেন বেশি আলোচনা হচ্ছে রেফারিং ও ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে। বিশেষ করে নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে লাল কার্ডের শাস্তি নিয়ে ফিফার এক চোখা নীতি ফুটবল বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই ধরনের অপরাধের জন্য দুই দেশের দুই ফুটবলারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি; যেখানে একজন পেয়েছেন সাধারণ ক্ষমা, আর অন্যজনের ওপর নেমে এসেছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। ঘটনার সূত্রপাত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে। যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়ার ম্যাচে বসনিয়ান খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন মার্কিন তারকা ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে (শেষ ষোলোতে) তাঁর নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু পর্দার আড়ালে ঘটে যায় অন্য এক নাটক। বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন। শুধু তাই নয়, খোদ হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করেন ফিফা সভাপতিকে। এর পরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। ফিফা তাদের ২৭ নম্বর ধারা (যেখানে কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে যেকোনো শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করার সুযোগ রয়েছে) ব্যবহার করে বালোগানের শাস্তি স্থগিত করে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার সবুজ সংকেত পান তিনি। এদিকে ঠিক একই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয়েছে ইংল্যান্ড দলকে। শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে মাঠে নেমে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইংলিশ ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। একই রাতে বালোগানের শাস্তি মওকুফের খবর শুনে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল কৌতুক করে বলেছিলেন, "হ্যারি কেইনকে বলব ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে, যাতে ওর (কোয়ানসার) লাল কার্ডটাও বাতিল করা হয়।" টুখেল কৌতুক করলেও ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কোয়ানসার লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অফিশিয়াল আপিল করেছিল। কিন্তু ফিফা ইংল্যান্ডের আপিল তো রাখেইনি, উল্টো ফাউলের ধরনকে 'মারাত্মক' আখ্যা দিয়ে কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা এক ম্যাচ থেকে বাড়িয়ে দুই ম্যাচ করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) দীর্ঘ সময় পরীক্ষা করে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল এবং দুই দলই ফিফার কাছে আপিল করেছিল। কিন্তু ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি থেকে আসা দুই রকম সিদ্ধান্ত ফুটবল ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মনে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কূটনৈতিক চাপ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ফোন কলেই কি তবে ফিফার আইন নমনীয় হয়ে গেল? নাকি একই ধরণের অপরাধের জন্য দুই বিশ্বশক্তির দুই ফুটবলারের এমন দুই মেরুর শাস্তি কেবলই এক কাকতালীয় ঘটনা—তা নিয়ে ফুটবল পাড়ায় গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। তথ্য: প্রথম আলো/ বিডিফেস মেহেদী হাসান
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more