বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে ২০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক মাত্র ২ জন
নভেম্বর ০৪, ২০২৬, ১২:০৮ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ০৪, ২০২৬, ১২:০৮ পি.এম
বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে ২০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক মাত্র ২ জন
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে। শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। শুধু শিক্ষক সংকটই নয়, নৈশপ্রহরী, পিয়ন ও বাবুর্চিসহ প্রয়োজনীয় কর্মচারী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও আবাসিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোগত সংকট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। অথচ ১৭টি বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ যথাযথভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে নানা অবকাঠামোগত সংকটও। প্রয়োজন একটি নতুন একাডেমিক ভবন, অডিটোরিয়াম, সাতটি আধুনিক ল্যাব, শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি, রান্নাঘর, পর্যাপ্ত টয়লেট, নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে পাকা রাস্তা, মূল ফটকের সংস্কার এবং একটি শহীদ মিনার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও খেলাধুলার সামগ্রীরও অভাব রয়েছে।
নার্সিং শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে দক্ষ ও মানসম্মত সেবাদানকারী নার্স হিসেবে গড়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, আধুনিক ল্যাব ও পর্যাপ্ত শিক্ষক-তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানপ্রধান মরিয়ম বেগম জানান, শিক্ষক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। একজন নৈশপ্রহরী পর্যন্ত নেই। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও কার্যক্রম সচল রাখতে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও অর্থ ব্যয় করেছেন। এ কারণে পারিবারিক জীবনেও তাঁকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এ বছর ৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া ও সোনিয়া আক্তার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে তাঁরা সঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছেন না। ক্যাম্পাসে কোনো নৈশপ্রহরী বা পিয়ন নেই। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাঁদের থাকতে হয়। বাবুর্চি না থাকায় নিজেদের রান্না করে খেতে হয়। এমনকি ক্যাম্পাসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও শিক্ষার্থীদের করতে হয়। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে। খেলাধুলার জন্য একটি ক্যারম বোর্ড পর্যন্ত নেই। এত সমস্যার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তাঁদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। তাঁরা এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সচেতন মহলের মতে, নার্সিং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি করলেই চলবে না; প্রয়োজনীয় শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব, প্রশিক্ষণ উপকরণ ও সহায়ক জনবলও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more