আম্বানি কি ভারতের 'গডফাদার'? রিলায়েন্সের আধিপত্যের গল্প
নভেম্বর ০৩, ২০২৬, ১:২৪ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ০৩, ২০২৬, ১:২৪ পি.এম
আম্বানি কি ভারতের 'গডফাদার'? রিলায়েন্সের আধিপত্যের গল্প
অ-অ+
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কয়েকদিন আগে ভারত সফরে এসেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। কিন্তু তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে দেশটির অন্যতম শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্ক রুবিও তার ভারত সফরে রাজধানী নয়াদিল্লির পরিবর্তে মুম্বাই এবং গুজরাটের জামনগরে সময় কাটান। মুকেশ আম্বানি ভারতের কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন। তিনি ভারতের বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। অথচ আমেরিকার মতো বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর একটি দেশের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মুকেশ আম্বানি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলোন মাস্ক তার একটি পোস্টে প্রশ্ন করেন ‘Is Ambani the real boss of India?’ তারমানে আম্বানি কি ভারতের আসল বস? কারণ ভারতের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট ব্যবসা চালায় আম্বানির জিও। ভারতের ইন্টারনেট বাজারকে কেন্দ্র করে ইলোন মাস্ক এবং মুকেশ আম্বানির ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা চলছে। মাস্ক দীর্ঘ পাঁচ বছর চেষ্টা করেও ভারতে স্টারলিংক ইন্টারনেট পরিচালনার লাইসেন্স পাচ্ছেন না। সে কারণে আরেকটি পোস্টে ইলোন মাস্ক আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘Dear Prime Minister Ambani’ বলে সম্বোধন করেন। প্রশ্ন হলো আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে শুধু মুকেশ আম্বানির সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে এবং বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলোন মাস্কও কেন আম্বানির সামনে অসহায়? এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হবে বিডিফেস টুয়েন্টিফোরের আজকের আয়োজনে।
মুকেশ আম্বানির ক্ষমতার প্রধান উৎস তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। তার বাবা ধীরুভাই আম্বানি ১৯৫৭ সালে এই ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম দিকে সুতা ও বস্ত্রের ব্যবসা করলেও পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি পেট্রোকেমিক্যাল, তেল পরিশোধন, প্রাকৃতিক গ্যাস, টেলিযোগাযোগ, খুচরা ব্যবসা, গণমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। বর্তমানে রিলায়েন্স ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি কোম্পানিগুলোর একটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি ভারতীয় রুপি। রিলায়েন্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাগুলোর একটি হলো তেল ও জ্বালানি। ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রিলায়েন্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পণ্য রপ্তানি করে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকা থেকে ভারতের প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস রিলায়েন্স গ্রুপ উত্তোলন করে। ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতেও আম্বানির বিশাল প্রভাব রয়েছে। ২০১৬ সালে রিলায়েন্স জিও চালু হওয়ার পর ভারতের ইন্টারনেট বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কম দামে মোবাইল ইন্টারনেট সরবরাহ করে জিও অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি কোটি গ্রাহক সংগ্রহ করে। বর্তমানে ৫২ কোটিরও বেশি গ্রাহক নিয়ে এটি ভারতের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর। মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড ফাইবার ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতেও জিওর বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। অন্যদিকে রিলায়েন্স রিটেইলের অধীনে ভারত জুড়ে ২০ হাজারেরও বেশি দোকান আছে। এসব দোকানে খাদ্য পণ্য, পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সকল ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়। স্মার্ট বাজার, রিলায়েন্স ডিজিটাল, ট্রেন্ডস অ্যাজিও এবং জিওমার্টের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানটির অধীনে পরিচালিত হয়। এছাড়া হিমলেইজ, গ্যাপ, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, আরমানি বারবেরি, সেফোরা সহ বহু আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ভারতীয় ব্যবসার মালিকানাও রয়েছে রিলায়েন্সের। ভারতের গণমাধ্যম এবং বিনোদন জগতেও আম্বানির প্রভাব উল্লেখযোগ্য। নিউজ১৮, সিএনবিসি টিভি১৮, নেটওয়ার্ক১৮ এবং জিও হটস্টারের মতো সংবাদ ও বিনোদন মাধ্যমে রিলায়েন্সের ব্যবসা রয়েছে। এর পাশাপাশি রিলায়েন্সের সৌর বিদ্যুৎ, ব্যাটারি, গ্রিন হাইড্রোজেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। এমনকি ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা এবং গুগলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও রিলায়েন্সের ডিজিটাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। এসব ব্যবসা মুকেশ আম্বানিকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে যেখানে তার প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু কোম্পানির লাভ-ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং মুকেশ আম্বানি ভারতের জ্বালানি সরবরাহ যোগাযোগ ব্যবস্থা, গণমাধ্যম, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উপরও তার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। ফলে আম্বানি শুধু একজন ধনী ব্যবসায়ী নন ভারতের অর্থনীতিতে মুকেশ আম্বানি এক গডফাদারে পরিণত হয়েছেন।
রিলায়েন্স গ্রুপের ব্যবসা শুধু ভারতেই নয় বরং সমগ্র বিশ্বেই এক ধরনের সফট পাওয়ার তৈরি করেছে যার মূলে রয়েছে আম্বানির তেল সাম্রাজ্য। গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্সের বিশাল তেল শোধনাগার রয়েছে। এটি বিশ্বের একক বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স। এখানে দুটি বড় শোধনাগার মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। এক ব্যারেল তেলে প্রায় ১৫৯ লিটার তেল থাকে সেই হিসেবে জামনগরের শোধনাগার কমপ্লেক্স প্রতিদিন প্রায় ২২ কোটি ২৬ লাখ লিটার অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। এই বিপুল সক্ষমতার পাশাপাশি জামনগরের আরেকটি বিশেষত্ব হলো এখানে খুব ভারী এবং ঘন তেল পরিশোধন করা যায়। বিশ্বের খুব কম দেশের কাছেই এই ধরনের সক্ষমতা আছে। এই তেল শোধনাগার পরিদর্শন করাই ছিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান আগ্রহের জায়গা। কারণ চলতি বছরের শুরুর দিকে আমেরিকা ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে দেশটির তেল সম্পদ লুট করে। কিন্তু ভেনিজুয়েলার অতি ভারী ও ঘন তেল পরিশোধন করার মতো সক্ষমতা আমেরিকার ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তেল সংকট কাটাতে মুকেশ আম্বানি ওয়াশিংটনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠেছে আর সে কারণেই মূলত রুবিওর এই ভারত সফর।
রাশিয়ার তেলের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে আমেরিকার নজর পড়ে ভেনিজুয়েলার দিকে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলের মজুদ রয়েছে। কিন্তু ভেনিজুয়েলার তেলের বড় একটি অংশ অত্যন্ত ঘন এবং ভারী। সাধারণ অপরিশোধিত তেলের তুলনায় এই তেল প্রক্রিয়াজাত করা অনেক কঠিন। তাই ভেনিজুয়েলার তেল ডাকাতি করেও আমেরিকার তেল সমস্যার সমাধান হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এবং বাবেল মানদেব প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা তৈরি হবার পর আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। যদিও আমেরিকা নিজেই এই সংকটের সূচনা করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বিভিন্ন উৎস ও শোধনাগার ব্যবহার করে তেলের সরবরাহ বাড়াতে এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে। সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই রুবিওর ভারত সফর আসলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ ছিল না বরং ভারতের অর্থনীতির মুকুটবিহীন সম্রাট আম্বানির কাছ থেকে আরো বেশি তেলের যোগান আদায় করাই ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় মার্ক রুবিও জানান তিনি রিলায়েন্সকে আরো বেশি ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিশোধনে উৎসাহিত করতে চান। এমনকি রিলায়েন্স যেন সরাসরি ভেনিজুয়েলায় গিয়ে তেল উৎপাদন করতে পারে সে বিষয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করতে চান। তার মানে আমেরিকা নিজে থেকেই ভেনিজুয়েলার তেল ব্যবসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আম্বানির হাতে তুলে দিতে চাইছে। আম্বানির সাথে আমেরিকার তেলের স্বার্থ শুধু ভারতেই নয় বরং আমেরিকায়ও আম্বানির অর্থ এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। টেক্সাসের ব্রাউন্সভিলতে ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি নতুন তেল শোধনাগার প্রকল্পেও আম্বানির বিনিয়োগ করার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলোন মাস্কের সঙ্গে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ভারতের ইন্টারনেট বাজারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা চলছে। আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্সের জিও ভারতের বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ কোম্পানি। অন্যদিকে ইলোন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক মহাকাশে স্থাপিত হাজার হাজার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পৃথিবীর ১৬৫টি দেশে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে। মাস্ক তার স্টারলিংক সেবা ভারতেও চালু করতে চায়। আর সেখান থেকেই দুই ধনকুবেরের স্বার্থের সংঘাত শুরু। ২০২৪ সালে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। আম্বানি চেয়েছিলেন সরকার নিলামের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট তরঙ্গ বা স্পেকট্রাম বরাদ্দ দিক। অন্যদিকে মাস্ক চেয়েছিলেন সরকার সরাসরি নির্ধারিত নিয়মে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দিক। ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত মাস্কের চাওয়া পদ্ধতির পক্ষেই অবস্থান নেয়। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব থাকার পরও ২০২৫ সালে আম্বানি এবং মাস্কের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী স্টারলিংক ভারতে অনুমোদন পেলে জিওর দোকান থেকে এসব যন্ত্রপাতি বিক্রি করতে হবে। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত স্টারলিংক ভারতে বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে পারেনি। কারণ মুকেশ আম্বানি নিজেই এখন স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ব্যবসাও শুরু করতে চাচ্ছেন। এরপর ইলোন মাস্ক অভিযোগ করেন ভারতের কিছু প্রভাবশালী ধনকুবের নিজেদের ব্যবসা রক্ষার জন্য স্টারলিংক আটকে রেখেছেন। ৮ অক্টোবর তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন ‘Is Ambani the real boss of India?’ অর্থাৎ ভারতের আসল বস কি মুকেশ আম্বানি। পরদিন ৯ অক্টোবর মাস্ক আরো সরাসরি আম্বানিকে আক্রমণ করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেন ‘Dear Prime Minister Ambani’ এরপর তিনি আম্বানিকে ভারতের প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে সম্বোধন করে প্রশ্ন তোলেন স্টারলিংকে কেন ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা করতে দেওয়া হচ্ছে না? তবে ভারত সরকার যদিও মাস্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে মাস্ক ও আম্বানি এখন একই সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করায় ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের একটি বক্তব্যের পর এই বিতর্ক আরো বেড়ে যায়। কারণ তিনি রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সহ সরকারি কর্মকর্তাদের মুম্বাইয়ে ডেকে নেন। রাহুল গান্ধী সহ ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্ন হলো আমেরিকার রাষ্ট্রদূত কেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক স্থানে ডেকে নিবেন? অথচ আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে নিজে গিয়ে একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করছেন। বিরোধীদের মতে এটি ভারতের কূটনৈতিক মর্যাদার জন্য অস্বস্তিকর। অন্যদিকে আম্বানির সঙ্গে রুবিওর বৈঠকের পর ভারতের বড় বড় ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী যখন রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ক্ষমতা অর্জন করে তখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ভেঙে পড়ে। আম্বানির সাথে আমেরিকার সম্পর্ক তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more