বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। তবে প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের হস্তক্ষেপে কাজটি পুনরায় শুরু করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার
(১৮জুন) দুপুরে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হলসংলগ্ন সড়কের নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাইয়া বন্দরের ল্যাঙড়া মুন্সীর পোল থেকে পূর্বদিকে সুন্দরী সিনেমা হলের সামনে ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের একটি আরসিসি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের সিসি ঢালাই কাজে নির্ধারিত মানের সিলেকশন বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের ও লবণাক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া দরপত্র অনুযায়ী ৩ ইঞ্চি পুরুত্বের ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কের প্রস্থও নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়রা কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ বন্ধ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের পুনরায় কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। এরপর আগের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেই কাজ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ পঞ্চায়েত বলেন, “সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। ঢালাইয়ের পুরুত্বও নির্ধারিত মানের নয়। বিষয়টি প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কিছু সময় পর আবার কাজ শুরু করা হয়।” আরেক বাসিন্দা মো. মনজু অভিযোগ করেন, “দরপত্র অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। নির্মাণকাজের শিডিউল দেখতে চাইলেও দেখানো হয়নি। স্বচ্ছতা না থাকায় অনিয়মের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।” এদিকে, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এনটিভি অনলাইনের বাউফল-দুমকি প্রতিনিধি এম এ হান্নান এবং দৈনিক খবরপত্রের উপজেলা প্রতিনিধি এইচ এম বাবলুর সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় তিনি অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি দেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। তিনি বলেন, “কাজ বন্ধ বা চালুর কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। সাংবাদিকদের গালাগাল বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।” নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, “প্রকল্পের শিডিউল আমাদের কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।” অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দায়িত্বে থাকা উত্তম বলেন, “আমি শুধু শ্রমিকদের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করি। নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেন মূল ঠিকাদার।” মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাশেদুল ইসলাম এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলবেন বলে জানান। পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল বলেন, “সড়কটি অনুমোদিত নকশা ও শিডিউল অনুযায়ী নির্মাণ করতে হবে। নকশা গোপন রাখার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more