প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ০৬, ২০২৬, ৪:৫১ এ.এম
আবরার হত্যার ৭ বছর: চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় দেশ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের এই শিক্ষার্থী। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট—উভয় ধাপেই আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকায়, এখন আবরারের পরিবার এবং পুরো দেশ আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দ্রুত তদন্ত শেষে ২৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং আসামিরা আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। বর্তমানে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কয়েকজন আসামি আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন, যা এখন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
দীর্ঘ সাত বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত বিচার শেষ না হওয়ায় আবরারের পরিবার হতাশ ও উদ্বিগ্ন। দ্রুত আপিল শুনানি শেষ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন আবরারের পরিবার। এই লক্ষ্যে তারা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।
এদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলার শুনানিতে কোনো ধরনের বিলম্ব করবে না বলে নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একদিনের জন্যও সময় চাওয়া হবে না। মানুষ এই মামলার রায় কার্যকর দেখতে চায়।’ অ্যাটর্নি জেনারেল আবরার হত্যাকাণ্ডকে বিগত ফ্যাসিবাদ আমলের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই মামলার রায় প্রমাণ করেছে যে অপরাধ করলে বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান আশা প্রকাশ করেছেন যে সর্বোচ্চ আদালত থেকে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।
হাইকোর্টে যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে তারা হলেন—মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা পাঁচজন হলেন—মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।
সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আবরার হত্যার চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, এখন সবার দৃষ্টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দিকে। দেশবাসী দ্রুত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় রয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more