ঝড়ের মধ্য দিয়ে যেভাবে ইতিহাস গড়েছিল সঞ্জয় দত্তের 'খলনায়ক'
Date: 2026-08-31
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ৪:১৯ এ.এম
ঝড়ের মধ্য দিয়ে যেভাবে ইতিহাস গড়েছিল সঞ্জয় দত্তের 'খলনায়ক'
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
১৯৯৩ সাল ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম এক ঝঞ্ঝাবাজুময় ও অস্থির সময়। একদিকে মুম্বাইয়ের ধারাবাহিক বোমা হামলা, অন্যদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা উত্তেজনা—এমনই এক প্রেক্ষাপটে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল সুভাষ ঘাই পরিচালিত কালজয়ী সিনেমা ‘খলনায়ক’। মুক্তি পাওয়ার আগেই সিনেমাটিকে ঘিরে তৈরি হয় একের পর এক বিতর্ক ও নাটকীয় পরিস্থিতি। তবে সমস্ত আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক তুমুল প্রতিবাদ ও মূল অভিনেতার গ্রেপ্তারের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল এ সিনেমাটি।
চলচ্চিত্রটি ঘিরে প্রথম বিতর্কের সূত্রপাত হয় এর অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘চোলি কে পিছে ক্যায়া হ্যায়’ নিয়ে। লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলালের সঙ্গীত পরিচালনায় এবং অলকা ইয়াগনিক ও ইলা অরুণের কণ্ঠে গানটি মুক্তির পরপরই তুমুল আলোড়ন তোলে। গানটিতে মাধুরী দীক্ষিত ও নীনা গুপ্তার উপস্থিতি ও পারফর্ম্যান্স ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হলেও একাংশের তরফ থেকে এতে 'অশ্লীলতা' ও দ্ব্যর্থকতার অভিযোগ আনা হয়। দূরদর্শনের মতো রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে গানটি সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং বেশ কিছু সামাজিক সংস্থা গানটি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারে পর্যন্ত পৌঁছায়। তবে বিপুল আইনি তর্ক-বিতর্কের পর আদালত গানটিকে ছাড়পত্র দেয়, যা সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দেয়।
গান কেন্দ্রিক বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেতা সঞ্জয় দত্তকে ঘিরে তৈরি হয় আরেক বড় সংকট। ১৯৯৩ সালের এপ্রিল মাসে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সঞ্জয় দত্ত। সে সময় 'খলনায়ক' সিনেমার শুটিং ও সম্পাদনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। প্রধান অভিনেতার গ্রেপ্তারের ঘটনা পুরো সিনেমাপাড়াকে স্তম্ভিত করে দেয়। ফলে ছবিটির মুক্তি এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একটি পক্ষ তো ছবির মুক্তি আটকে দেওয়ার দাবিও তুলেছিল।
তবে যাবতীয় আইনি লড়াই এবং বিতর্ক কাটিয়ে ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘খলনায়ক’। সব বাধার প্রাচীর ভেঙে দর্শক সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়ে। আন্তর্জাতিক স্তরে এবং ভারতের বাজারে চলচ্চিত্রটি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে এবং সে বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমার মর্যাদা লাভ করে। শুধু তা-ই নয়, 'খলনায়ক'-এর মিউজিক অ্যালবামের কোটি কোটি ক্যাসেট বিক্রি হয়, যা তৎকালীন হিন্দি সিনেমার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছিল। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, বিতর্ক ও প্রতিকূলতাকে জয় করে কালজয়ী ইতিহাসে পরিণত হওয়ার অন্যতম সেরা উদাহরণ 'খলনায়ক'।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more