প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ৪:০৩ এ.এম
ভারতে বাড়ছে অপরাধ: চরম নিরাপত্তাহীনতায় নারীরা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ভারতে কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না নারী নির্যাতন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের। একের পর এক নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে দেশটিতে নারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর আইন প্রণয়ন ও শাস্তির বিধান বাড়ানো হলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা।
সংবাদ সংস্থা এএফপি-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অপরাধ বন্ধে আইনি ব্যবস্থার চেয়েও বেশি অভাব রয়েছে যথাযথ বাস্তবায়নের।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলের একটি পার্কে পুলিশ পরিচয়ে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এই ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লির রাস্তায় নেমে শত শত শিক্ষার্থী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এছাড়া বিগত কয়েক সপ্তাহে দিল্লিতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং ভারী বৃষ্টির দিনে সাহায্য করার নাম করে এক বাসচালক ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে ১৭ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে এসেছে।
এই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া আলোড়ন সৃষ্টিকারী দিল্লির দলবদ্ধ ধর্ষণের স্মৃতি ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে চলন্ত বাসে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল, যা পুরো বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ব্যাপক গণদাবীর মুখে সরকার যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইন প্রণয়ন করে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শাস্তি ন্যূনতম ২০ বছর এবং পুনরাবৃত্তিমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০টি ধর্ষণের ঘটনা পুলিশের খাতায় নথিভুক্ত হয়েছে। ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল গড়ে ৬৮টি। সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে বহু ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায় বলে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।
আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের মতে, প্রধান সমস্যা আইনে নয়, বরং বিচারের ধীরগতি ও তার বাস্তবায়নে। আইনজীবী শিল্পী জৈন জানান, আদালত ও পুলিশের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে প্রতিটি মামলার বিচার নিষ্পত্তিতে গড়ে সাত থেকে আট বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
সরকারি উপাত্ত বলছে, ২০২৪ সালে বিচারাধীন দুই লাখেরও বেশি ধর্ষণ মামলার মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০১২ সালের পর থেকে সাজা হওয়ার হার মাত্র এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি স্থির রয়েছে। নারী অধিকারকর্মীদের দাবি, শুধু কঠোর আইন দিয়েই এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়; বরং মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন করা জরুরি। কারণ সমাজে এখনো অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারীকেই অপরাধের জন্য দায়ী করার প্রবণতা দেখা যায়। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে একদিকে অপরাধীদের মনে আইনের ভয় কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীরাও আশাহত হয়ে পড়ছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more