প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১:৩০ পি.এম
ভারতে তরুণদের আন্দোলন যা যা অর্জন করেছে
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ভারতীয় তরুণদের টানা ও অভূতপূর্ব আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নতুন ও অত্যন্ত কঠোর আইন প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক বিরোধী দল নয়; বরং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে সংগঠিত একদল অরাজনৈতিক ও ক্ষুব্ধ তরুণের টানা আন্দোলনই সরকারকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া এ আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতের বিভিন্ন বড় শহর থেকে শুরু করে প্রান্তিক মফস্বলেও ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে হাজার হাজার তরুণ রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বেশ কিছু প্রভাবশালী প্রতিনিধি ও সমর্থক এই তরুণদের ‘নৈরাজ্যবাদী’ ও ‘অ্যাকটিভিস্ট’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট দাবি ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের পচন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেওয়াকে আন্দোলনকারীরা তাঁদের প্রথম বড় জয় হিসেবে দেখছেন। কলামটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকার শুরুতে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা বিলম্ব করলেও শেষ পর্যন্ত তরুণদের ক্ষোভের তীব্রতা উপলব্ধি করে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
পদত্যাগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে একটি ‘কঠোর আইন’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকারের তরফ থেকে বারবার আইনটির কঠোরতার কথা জোর দিয়ে বলা হলেও আন্দোলনকারী তরুণদের মতে—শুধু নতুন আইনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পুরো কাঠামোর আমূল পরিবর্তন।
সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারতের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের বেসরকারি স্কুলে পড়ার সামর্থ্য নেই, তারা নার্সারি থেকে হাইস্কুল পর্যন্ত প্রতি পদে সরকারি ব্যবস্থার অবহেলার শিকার হয়েছে। বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির চেয়ে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস পুনর্লিখন বা মোগল আমলকে হেয় করার রাজনৈতিক এজেন্ডাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, মোদি সরকারের আগের সময়টিতে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বমানের ছিল বলে বিরোধী দলগুলোর যে দাবি, তাকেও বাস্তবসম্মত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ক্ষুব্ধ তরুণদের মধ্যে রাষ্ট্রযন্ত্র ও বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলন ভারতের রাজনীতি ও সমাজবাস্তবতায় একটি নতুন বার বার্তা দিয়েছে। সরকারি ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলা তরুণ সমাজ এখন নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হচ্ছে। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর তোয়াক্কা না করে একদল ছন্নছাড়া তরুণের এই সফলতা প্রমাণ করে যে, উন্নত ভারতের স্বপ্নে তরুণদের কণ্ঠস্বরই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী অনুঘটক।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more