পারস্য উপসাগর ছাড়িয়ে নতুন অঞ্চলে ছড়াচ্ছে ইরান সংঘাত
Date: 2026-07-27
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৭, ২০২৬, ৪:৩৩ এ.এম
পারস্য উপসাগর ছাড়িয়ে নতুন অঞ্চলে ছড়াচ্ছে ইরান সংঘাত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ ও সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন ভূখণ্ডে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগর উপকূলে নতুন করে হামলা শুরুর পাশাপাশি কাস্পিয়ান সাগরেও উত্তেজনার পারদ চড়েছে। অন্যদিকে টানা ১৩ দিন লাগাতার বিমান হামলার পর ইরানে সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ এখনো পূর্ণ বহাল রয়েছে।
রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় জানা গেছে, ইরানে বিমান হামলা সাময়িক বন্ধ রাখার কারণ সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু না বললেও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে সৃষ্ট চাপ, উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্ভাব্য মারাত্মক ক্ষতির কথা বিবেচনা করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ সাময়িক স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিএনএন জানায়, মার্কিন অস্ত্রাগারের স্থিতি ও সামর্থ্য নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করার পরই প্রতিরক্ষা দপ্তর সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে।
মার্কিন হামলা সাময়িক বন্ধ থাকলেও সংঘাতের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইয়েমেন ও লোহিত সাগর অঞ্চল। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রিয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু শহরের অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জিজানের শোধনাগার এলাকায় ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। অন্যদিকে ইয়ানবুতে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই ধ্বংস করে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর জবাবে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ইয়েমেনের মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুতিদের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়ে তাদের সমস্ত তেল স্থাপনায় আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই নতুন বিরোধের ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের দুই প্রধান পথ—হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব—একযোগে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকেও নতুন করে উসকে দেবে।
সংঘাতের রেষ ছড়িয়ে পড়েছে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত। শনিবার ইরান অভিযোগ করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে অবস্থিত তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজের এক নাবিক নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে পাল্টা দাবি করেছেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নজরদারির মাধ্যমে সংগৃহীত উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তথ্য ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আঘাত স্থগিত থাকলেও লোহিত সাগর ও কাস্পিয়ান সাগরের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও এর সংলগ্ন অঞ্চলের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more