স্কটল্যান্ডের 'সিকার পয়েন্ট' এখন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত
Date: 2026-07-14
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৪, ২০২৬, ৪:২৬ এ.এম
স্কটল্যান্ডের 'সিকার পয়েন্ট' এখন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পৃথিবীর বয়স নিয়ে বিজ্ঞানীদের প্রচলিত সব ধারণা পাল্টে দেওয়া স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক স্থান 'সিকার পয়েন্ট' এখন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আরও উন্মুক্ত। আধুনিক ভূতত্ত্বের জনক জেমস হাটনের ৩০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কটল্যান্ডের উপকূল রেখা ধরে ১ মাইল দীর্ঘ একটি হাঁটার পথ বা 'ডিপ টাইম ট্রেইল' চালু করা হয়েছে। এই নতুন ট্রেইলটি বেরউইকশায়ারের খাড়া উপকূলের ওপর দিয়ে দর্শনার্থীদের এমন এক শিলাস্তরে নিয়ে যায়, যেখানে দাঁড়িয়ে জেমস হাটন প্রমাণ করেছিলেন—পৃথিবীর বয়স মানুষের তৎকালীন কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি প্রাচীন।
ট্রেইলটি পিজ বে–এর কাছ থেকে শুরু হয়ে খাড়া উপকূল ধরে এগিয়ে গেছে। এই পথ দিয়ে হাঁটার সময় দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে হাটনের লেখনী খোদাই করা পাথর এবং তথ্যফলক। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিশেষজ্ঞদের অডিও ভাষ্য, যা শুনতে শুনতেই দর্শনার্থীরা স্কটিশ এই বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কারের গল্প জানতে পারেন। অডিওতে শুরুতেই শোনা যায় স্কটিশ জিওলজি ট্রাস্টের সাবেক চেয়ার ড. এলসা পানচিরোলির কণ্ঠ, যিনি দর্শনার্থীদের সিকার পয়েন্টের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পথে আরও রয়েছে লাল বেলে পাথরে নির্মিত ২৩৮ বছর পুরোনো ধ্বংসপ্রাপ্ত সেন্ট হেলেনস কার্ক গির্জা। উপকূল ধরে এগিয়ে গেলে দেখা যায় ঢেউ খেলানো সবুজ পাহাড় ও কৃষিজমি, যা সরাসরি বর্ডারল্যান্ডের খাড়া উপকূল দিয়ে নিচে নেমে গেছে।
১৭২৬ সালে এডিনবরায় জন্ম নেওয়া জেমস হাটন ১৭৮৮ সালে প্রথমবার সিকার পয়েন্ট দেখার আগেই একটি তত্ত্ব দিয়েছিলেন—'ক্ষয় ও পুনর্গঠনের চক্রের মাধ্যমে পৃথিবীপৃষ্ঠ গঠিত হয়েছে।' পরবর্তীতে সিকার পয়েন্টের শিলাস্তরই তাঁর এই তত্ত্বের চাক্ষুষ প্রমাণ এনে দেয়, যা 'হাটনস আনকনফরমিটি' নামে পরিচিত। সিকার পয়েন্টে মূলত দুই ধরনের পাথর রয়েছে। নিচের দিকে গাঢ় রঙের 'গ্রেওয়াকি' শিলা প্রায় খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে আছে, যা প্রায় সাড়ে ৪৩ কোটি বছর আগে একটি প্রাচীন মহাসাগরের তলদেশে তৈরি হয়েছিল। আর তার ওপর সমতলভাবে স্তরে স্তরে জমে আছে লাল বেলে পাথর, যা তৈরি হয়েছিল আরও সাড়ে ছয় কোটি বছর পরে। হাটন বুঝতে পেরেছিলেন, খাড়া শিলাগুলো প্রথমে সমান্তরাল ছিল, যা ভূগাঠনিক প্লেটের সংঘর্ষে ওপরে উঠে কাত হয়ে যায় এবং পরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নতুন বেলে পাথরের নিচে চাপা পড়ে। এই বিশাল প্রক্রিয়ার জন্য কোটি কোটি বছর সময়ের প্রয়োজন।
তাঁর এই আবিষ্কার তৎকালীন বাইবেলভিত্তিক ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে এবং বিজ্ঞানীদের সামনে নিয়ে আসে 'ডিপ টাইম' বা ভূতাত্ত্বিক সময়ের এক বিশাল পরিসর। বিশ্বের ভূতত্ত্ববিদদের কাছে সিকার পয়েন্ট একটি আন্তর্জাতিক তীর্থস্থান হলেও সাধারণ পর্যটকদের কাছে এটি এতদিন অনেকটাই অচেনা ছিল।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্য হান্টেরিয়ানের ভূতত্ত্ব বিভাগের কিউরেটর কেটি স্ট্র্যাং বলেন, "আমি এই এলাকার কাছাকাছি হাইস্কুলে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আগে সিকার পয়েন্ট সম্পর্কে জানতাম না। এই নতুন ট্রেইল এখন সাধারণ মানুষকে এখানে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।"
'থিওরি অব দ্য আর্থ' গ্রন্থের উপসংহার টানতে গিয়ে জেমস হাটন সিকার পয়েন্ট সম্পর্কে বলেছিলেন, "সেখানে শুরুর কোনো চিহ্ন যেমন নেই, শেষেরও কোনো সম্ভাবনা নেই।" সেই অন্তহীন সময়ের স্পর্শ পেতেই এখন দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন নতুন এই ট্রেইলে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more