রেকর্ড ছুঁয়েছে পোলাওর চালের দাম, সুবিধা বঞ্চিত কৃষক
Date: 2026-08-29
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ৩:০৫ এ.এম
রেকর্ড ছুঁয়েছে পোলাওর চালের দাম, সুবিধা বঞ্চিত কৃষক
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
দেশের বাজারে হু-হু করে বাড়ছে পোলাওর চালের (চিনিগুঁড়া) দাম। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বাজারে সুগন্ধি এই চালের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে বাজার জুড়ে পোলাওর চালের এই আকাশচুম্বী দামের সুফল পাচ্ছেন না প্রান্তিক কৃষকেরা। চাল ও ধানের দামের চড়া দর হাঁকানোর আগেই কৃষকের ঘর থেকে ধান বিক্রি হয়ে গেছে।
বাজারের হালচাল ঘুরে জানা যায়, বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়। অথচ মাত্র ছয় মাস আগে একই চালের দর ছিল ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। রাজশাহীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে বর্তমানে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পোলাওর চাল। হঠাৎ চালের দাম এত বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে ছোট ছোট রেস্তোরাঁ মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি তদারকিতে নামা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জরিমানা করলেও, ব্যবসায়ীদের দাবি— পাইকারি কোম্পানি ও মোকাম থেকেই তারা বেশি দামে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
চালের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিদেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানিকে দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রধান সুগন্ধি ধান উৎপাদনাঞ্চল দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়। দিনাজপুরেই সবচেয়ে বেশি (ব্রি-৩৪) চিনিগুঁড়া ধান আবাদ হয়। শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানি গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দিনাজপুর থেকেই ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করেছে। বাজারে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ কমে যাওয়াকেই চালের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ বলে মনে করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে, ধানের এই বাড়তি দরে কোনো লাভ পৌঁছায়নি প্রান্তিক কৃষকের পকেটে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও চিরিরবন্দরের কৃষকেরা জানান, ধান কাটার মৌসুমে ৭৫ কেজির এক বস্তা চিনিগুঁড়া ধান ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটির দাম বেড়ে বর্তমানে সাড় আট হাজার টাকায় ঠেকলেও ততদিনে কৃষকদের হাতের ধান পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যায়। ফলে ধানের আকাশছোঁয়া মূল্যের পুরো লভ্যাংশই চলে গেছে আড়তদার, অটো রাইস মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more