যুক্তরাষ্ট্রের 'জ্যাভেলিন' মিসাইল প্রযুক্তি পাচ্ছে ভারত
Date: 2026-08-29
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ৩:৪১ এ.এম
যুক্তরাষ্ট্রের 'জ্যাভেলিন' মিসাইল প্রযুক্তি পাচ্ছে ভারত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্বব্যাপী নিজেদের সামরিক শক্তিমত্তা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘জ্যাভেলিন’ অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দীর্ঘদিনের মার্কিন-ভারত কূটনৈতিক ও সামরিক সুসম্পর্কের ধারাবহিকতায় এই পদক্ষেপকে দুই দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতের এই পদক্ষেপে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে ভবিষ্যতে যৌথভাবে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরির নতুন দুয়ারও উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক যে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, এই চুক্তি তারই বাস্তব প্রমাণ। ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সংলাপগুলোতে মার্কিন ও ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত প্রতিরক্ষা জোরদারের যে গুরুত্ব উঠে এসেছিল, এই কেনাকাটা সেই লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন এবং আরটিএক্স (RTX)-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জ্যাভেলিন মিসাইল বিশ্বজুড়ে তার নিখুঁত কার্যকারিতার জন্য বহুল পরিচিত। আধুনিক পদাতিক বাহিনীর জন্য এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি অস্ত্র, যা একজন সেনাসদস্যই কাঁধে বহন করে অত্যন্ত সহজে পরিচালনা ও উৎক্ষেপণ করতে পারেন। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ বা নিক্ষেপের পর স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হওয়ার সময় সেনাসদস্যরা আত্মরক্ষার্থে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে পারেন।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্যাভেলিন মিসাইল প্রধানত অত্যন্ত সুরক্ষিত সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ওপরের অংশে (ক্যানোপি) নিখুঁত আঘাত হেনে তা ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। এছাড়া বহুতল ভবন, পাহাড়ি এলাকা বা বাংকারের মতো সংবেদনশীল ও সংকুচিত স্থান থেকেও সেনা সুরক্ষার সাথে এটি ব্যবহার করা সম্ভব। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের এই কেনাকাটা তাদের স্থল বাহিনীর সক্ষমতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ইতিপূর্বে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতের কাছে বিভিন্ন মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল, জ্যাভেলিন কেনাকাটার চুক্তি তারই একটি সফল বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এ চুক্তির ফলে মার্কিন প্রযুক্তি এবং ভারতীয় ম্যানুফ্যাকচারিং সমন্বয়ে ভবিষ্যতে নিজস্ব সরঞ্জাম তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হবে, যা দু'দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে নতুন করে উজ্জীবিত করবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more