পুলিশ-সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
Date: 2026-09-13
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ৩:৫৬ এ.এম
পুলিশ-সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া, চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপাশা এলাকার এনামুল হক এনা (৩৫) এবং বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শেরে-বাংলা সড়কের মো. রিয়াজ (৩৫)। পুলিশ বলছে, তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে মামলার অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১০ মিনিটে বাউফল থানায় মামলা হয়। পরে তদন্ত শেষে ২৮ আগস্ট বাউফল থানার অভিযোগপত্র নম্বর ২৩০-এর মাধ্যমে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. ইব্রাহিম মোল্লা।
মামলার এজাহারে বাদী রতন মন্ডল অভিযোগ করেন- গত ২৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনামুল হক এনা, মো. রিয়াজসহ কয়েকজন তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় এনামুল হক নিজেকে ডিবি পুলিশের সদস্য এবং রিয়াজ নিজেকে থানার পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, তাঁরা বাদীর পরিবারের এক সদস্যের মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করার বিষয়টি তুলে ধরে নানা প্রশ্ন করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই বিয়ে স্বেচ্ছায় হয়েছে এবং তাঁদের সংসারে সন্তানও রয়েছে। এরপর অভিযুক্তরা বিষয়টি ‘সমাধান’ করে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা লোকজন ডেকে এনে ওই নারীকে জোর করে আটকে রাখার অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। এতে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার করে এনে এনামুল হক এনার হাতে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আসামিরা আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বাদী ও এজাহারভুক্ত আসামিরা একই থানার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে এনামুল হক এনার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় এবং মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে ৪৪৮, ১৭০, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্তে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পটুয়াখালী থেকে তদন্তসংক্রান্ত মতামত পাওয়ার পর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাঁদের ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিকতার ভিত্তিতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলাটির বিচার কবে শুরু হবে, তা আদালত নির্ধারণ করবেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more