প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৬, ২০২৬, ৪:২২ এ.এম
নরেন্দ্র মোদির সরকারের সামনে কি নতুন সংকট?
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
চাপের মুখে সাধারণত মাথা না নোয়ানোর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধীদের দাবি উপেক্ষা করা এবং আন্দোলনের মুখে মন্ত্রিসভার কাউকে না সরানোর নীতিতে অনড় থাকা তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত ধরন। তবে সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের প্রবল চাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হয়েছে মোদি সরকারকে। যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলন—যা পরিচিতি পেয়েছে ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ নামে—তারই ফলশ্রুতিতে এই পদত্যাগ। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুরতা, বেকারত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের আস্থাহীনতার মতো জটিল বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। এতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা ভাষা ও সংস্কৃতির শিক্ষার্থীরা, যাঁরা নিজেদের সমস্ত বিভেদ ভুলে কেবল ‘ভারতীয় শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে একাট্টা হয়েছিলেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, দোষীদের শাস্তি এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার। গত ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আন্দোলন দমানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত হওয়ায় আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে তাঁদের কর্মসূচি স্থগিত বা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে সরকার হয়তো সাময়িকভাবে এই বিক্ষোভের উত্তাপ কমাাতে পেরেছে, তবে তরুণ সমাজের গভীর ক্ষোভ ও আস্থার সংকট কি এতে সত্যিই কাটবে? প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কর্মসংস্থানের মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না হলে এই পদত্যাগ হয়তো কেবল সাময়িক স্বস্তিই বয়ে আনবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more