বাউফলে নিয়োগ পরীক্ষায় সাবেক এমপিপুত্রের প্রবেশ নিয়ে ছাত্রদলের সংঘর্ষ
Date: 2026-07-26
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১২:৫৮ পি.এম
বাউফলে নিয়োগ পরীক্ষায় সাবেক এমপিপুত্রের প্রবেশ নিয়ে ছাত্রদলের সংঘর্ষ
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার কক্ষে সাবেক সংসদ সদস্যের পুত্রের প্রবেশ ও প্রভাবে সৃষ্ট বিতর্ককে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুটি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার দুপুর ১২টার পর বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন চত্বরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় তথ্যসংগ্রহকারী, সুপারভাইজার এবং আইসিটি সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেছিল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। এই পরীক্ষার কক্ষের ভেতর বহিরাগতদের প্রবেশ এবং অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩টি শূন্য পদে সর্বমোট ১ হাজার ৫৫ জন চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কেন্দ্রে এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে আকাশ তালুকদার এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ কতিপয় পছন্দের প্রার্থীকে অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুঠোফোনসহ পরীক্ষার কক্ষে অবস্থান করছিলেন। কেন্দ্রটিতে পরীক্ষার্থী থাকা সাদিকুজ্জামান রাকিবের ভাইয়ের সূত্রে বিষয়টি জানাজানি হলে পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিব এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান জানান, পরীক্ষার শেষের দিকে কক্ষের মধ্যে আকাশ তালুকদার প্রবেশ করেন। তাঁকে নিষেধ করা হলে তিনি বলেছিলেন, "কোনো সমস্যা হবে না।" এর মধ্যেই পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষে ছিলেন সাবেক এমপিপুত্র আকাশ তালুকদার ও উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের অনুসারীরা, আর অন্য পক্ষে ছিলেন সাদিকুজ্জামান রাকিব ও তাঁর সমর্থকরা। পরীক্ষার কক্ষে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও স্বজনপ্রীতির চেষ্টার প্রতিবাদ করায় সাদিকুজ্জামানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব বক্তব্য রয়েছে। ছাত্রদল নেতা সাদিকুজ্জামান রাকিবের দাবি, আকাশ তালুকদার ও আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরীক্ষার পবিত্রতা নষ্ট ও অনিয়ম করার চেষ্টা করেছেন এবং এর প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আকাশ তালুকদার দাবি করেছেন যে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে তিনি কেবল পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা কুশল বিনিময় করতে গিয়েছিলেন। এছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ দাবি করেন যে তিনি ও আকাশ পরীক্ষার কক্ষে ছিলেন না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
নিয়োগ পরীক্ষার মতো একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়ম ও হট্টগোলের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পরীক্ষার কক্ষে অবৈধভাবে কারও প্রবেশের কোনো আইনি সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more