প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:৩৭ এ.এম
ক্ষমতা হারালেও নেতানিয়াহুর আইনি সংকট কাটবে না
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে যদি শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে অথবা তিনি নিজে পদত্যাগ করেন, তবুও তাঁকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো কোনোভাবেই থেমে থাকবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কিংবা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে আইনি পদক্ষেপগুলো চলছে, তা বর্তমান সরকারের পতনের পরেও সম্পূর্ণভাবে টিকে থাকবে। বরঞ্চ বিশ্লেষকদের মতে, পদত্যাগ করলে বা ক্ষমতা হারালে নেতানিয়াহু রাষ্ট্রীয় বিশেষাধিকার বা ব্যক্তিগত দায়মুক্তি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলবেন, যা এতদিন বিভিন্ন দেশের কাছে তাঁকে গ্রেপ্তার না করার আইনি বাহানা বা অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
গাজায় সংঘটিত হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এ ছাড়া বিগত সময়ে গাজাগামী ত্রাণ বহরে ইসরায়েলি বাধার ঘটনার জেরে তুরস্কের আদালতেও নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর অনুপস্থিতিতে বিচার এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আইসিসির রোম সংবিধির ধারা ৫৮(৪) অনুযায়ী আদালত অন্য কোনো নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকে। যদিও ইসরায়েল বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা আইসিসির প্রতিষ্ঠাতা চুক্তি বা রোম সংবিধির সদস্য নয় এবং আদালতের কোনো এখতিয়ার তাদের ওপর নেই, তবুও আইসিসির বিচারকমণ্ডলী ও প্রসিকিউটররা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে পরোয়ানা প্রত্যাহারের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং বিচারপ্রক্রিয়া যথারীতি অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানরা পদে থাকা অবস্থায় বিদেশি আদালতে বিচার ও গ্রেপ্তার থেকে যে সাময়িক ব্যক্তিগত বা পারসোনাল ইমিউনিটি বা দায়মুক্তি ভোগ করেন, তারা পদত্যাগ করা মাত্রই তা চিরতরে হারিয়ে ফেলেন। এর আগে ফ্রান্সসহ কিছু সদস্যরাষ্ট্র নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিগত দায়মুক্তির যুক্তি দেখিয়েছিল। তবে নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হলে বা পদত্যাগ করলে তাঁর সেই সাময়িক দায়মুক্তি আর থাকবে না, ফলে তাঁর কাছে কেবল সরকারি ক্ষমতাবলে পরিচালিত কাজের সীমিত কার্যকর দায়মুক্তিটুকুই অবশিষ্ট থাকবে। তাছাড়া আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে এই কার্যকর দায়মুক্তির সুরক্ষাও প্রযোজ্য নয়। ফলে পদচ্যুতি ঘটলে নেতানিয়াহু আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং বিদেশি জাতীয় আদালতগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার সামনে আগের চেয়েও অনেক বেশি তীব্র আইনি ও কূটনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়বেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more