প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০২, ২০২৬, ৩:২৬ পি.এম
ফিফা কি তাহলে ফুটবলের মাফিয়া?
অ-অ+
ফিফা:
ফিফাকে
বলা যায় ফুটবলের জাতিসংঘ, বরং অনেক ক্ষেত্রে ফিফা জাতিসংঘের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
ফিফা শুধু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া সংগঠনই নয় এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব্যবসাও বটে,
আর সে কারণেই ফিফার প্রেসিডেন্টের হাতে এত বিপুল পরিমাণ ক্ষমতা থাকে যে যা বিশ্বের
অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরও নেই। ফিফা কার্যনির্বাহী কমিটি কি করবে না করবে,
তার জন্য কোনো জবাবদিহিতা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও
ফিফার সিদ্ধান্তের কাছে অসহায়। ফিফার সাংগঠনিক কার্যক্রমে এমন সব চর্চা দেখা যায় সাধারণত
বড় বড় মাদক চোরাকারবারি বা ড্রাগ কার্টেল এবং মাফিয়ারা এভাবে কাজ করে থাকে।
ফিফা প্রতিষ্ঠিত
হবার পর থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এটি ছিল একটি অপেশাদার সংগঠন, তখন স্ট্যানলি রাউস নামের
একজন ইংরেজ ফুটবল প্রশাসক ফিফার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। স্ট্যানলি রাউসকে পরবর্তী ফিফা
সভাপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য চ্যালেঞ্জ করে জ্যাঁও হ্যাভেলাঞ্জ। তিনি ছিলেন
একজন অলিম্পিক সাঁতারু, যিনি পরবর্তীতে ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট
হয়েছিলেন। হ্যাভেলাঞ্জ তৎকালীন ফিফার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভালোমতো বুঝতে পারেন,
এই প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব। তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট
স্ট্যানলি রাউস ব্রিটিশ বর্ণবাদী শাসন থেকে আফ্রিকানদের স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন, সে
কারণে আফ্রিকার দেশগুলো তাকে ভালো চোখে দেখেনি। ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিটি
দেশ একটি করে ভোট দিতে পারে। জ্যাঁও হ্যাভেলাঞ্জ প্রেসিডেন্সি জিততে ধূর্ত রাজনীতিবিদদের
মতো আফ্রিকার দেশগুলোতে বিভিন্ন উন্নয়নের আশ্বাস দেন, সেই সাথে হ্যাভেলাঞ্জ বিভিন্ন
সদস্য দেশগুলোকে ঘুষও দিয়েছিল। সবাইকে অবাক করে দিয়ে হ্যাভেলাঞ্জ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত
হন, আর তখন থেকেই ফিফা একটি মাফিয়া সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। হ্যাভেলাঞ্জ প্রেসিডেন্ট
হবার পর তার প্রথম লক্ষ্যই ছিল ফিফাকে একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করা। হ্যাভেলাঞ্জ
যখন আফ্রিকান দেশগুলোকে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিল, তখনও ফিফার হাতে তেমন কোনো টাকা-পয়সাই
ছিল না। তাই হ্যাভেলাঞ্জ তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারছিল না, সেই সমস্যা সমাধানে
হ্যাভেলাঞ্জ সেপ ব্লাটারকে নিয়োগ দেয়। যিনি পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৭ বছর ফিফার প্রেসিডেন্ট
হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এই সেপ ব্লাটারই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় গডফাদারে পরিণত
হয়। ১৯৭৪ সালে ব্লাটার ফিফায় যোগদান করেছিল, ১৯৭৬ সালে সেপ ব্লাটার কোকা-কোলা কোম্পানিকে
ফিফার স্পনসর হতে রাজি করায়, এটি ছিল এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। সেপ ব্লাটারই প্রথম
খেলাধুলার সাথে আধুনিক স্পনসরশিপের আইডিয়া প্রচলন করেন, সে সময় কোকা-কোলা আর ফিফা মিলে
বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করে। সেই থেকেই মূলত ফিফার হাতে টাকা আসতে শুরু করে,
সেই ধারাবাহিকতায় একের পর এক কোম্পানি ফিফাকে স্পনসর করতে আগ্রহ দেখায়। অ্যাডিডাস,
জিলেট, ফিলিপস, ক্যাননসহ অসংখ্য ব্র্যান্ড ছিল সেই তালিকায়, তখন বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
কোম্পানি ফুটবলের সাথে তাদের নাম জড়াতে গর্ববোধ করতে থাকে। জ্যাঁও হ্যাভেলাঞ্জ ফিফার
প্রেসিডেন্ট হবার পর থেকে ঘুষের বিনিময়ে অ্যাডিডাসকে বিশেষ সুবিধা দিতে থাকে। অ্যাডিডাসও
তাদের ব্যবসার প্রসারে ফিফাকে ভালোমতো কাজে লাগায়, খেলোয়াড়দের বুট, জার্সি থেকে শুরু
করে ফুটবল পর্যন্ত সবকিছু সরবরাহ করত অ্যাডিডাস। এরপর অ্যাডিডাসের মালিক হোর্স্ট ডসলার
আইএসএল নামের একটি মার্কেটিং কোম্পানি গড়ে তোলে। আইএসএল ফিফার কাছ থেকে টেলিভিশন সম্প্রচার
সত্ত্ব এবং স্টেডিয়ামে বিজ্ঞাপনের সত্ত্ব কিনে নেয়। আইএসএল এই সত্ত্ব বেশি দামে অন্যান্য
টেলিভিশনের কাছে বিক্রি করত। হ্যাভেলাঞ্জ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আইএসএলকে এসব বিষয়ে
একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রদান করে। একদিকে টেলিভিশনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে আইএসএল মোটা
অংকের অর্থ কামাতে থাকে, অন্যদিকে আইএসএলের ঘুষের টাকায় হ্যাভেলাঞ্জ রাতারাতি ধনকুবেরে
পরিণত হয়। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ আসর থেকে ফিফাও প্রচুর অর্থ আয় করতে শুরু করে। হ্যাভেলাঞ্জ
প্রেসিডেন্ট হবার পর থেকে ফিফা একটি কপটতকশূন্য সংগঠন থেকে বহু মিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়
পরিণত হয়। সেই সময় ফিফার কার্যনির্বাহী সদস্যরাও অত্যন্ত বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত
হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ফিফার প্রেসিডেন্ট থাকার কারণে হ্যাভেলাঞ্জ ফিফার মুকুটবিহীন সম্রাটে
পরিণত হয়। এই বিষয়টি তখন ভালোভাবে নিতে পারছিল না তৎকালীন সময়ের ফিফা জেনারেল সেক্রেটারি
এবং হ্যাভেলাঞ্জের একান্ত শিষ্য সেপ ব্লাটার। এক পর্যায়ে ব্লাটার হ্যাভেলাঞ্জের বেশ
কিছু দুর্নীতির প্রমাণ হাতে পায়। সে হ্যাভেলাঞ্জকে তার পদ ছাড়ার জন্য ব্ল্যাকমেইল করতে
থাকে, তখন হ্যাভেলাঞ্জ ব্লাটারের সাথে চুক্তি করে ৯৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে
চায়। বিনিময়ে সে সেপ ব্লাটারকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে সকল সাহায্য করার আশ্বাস দেয়।
১৯৯৮ সালে ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সেপ ব্লাটারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৎকালীন
ইউরোপিয়ান ফুটবলের সভাপতি লেনার্ড জনসন। তিনি ফিফাতে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক
সংস্কার আনতে চান। অন্যদিকে ব্লাটার তার নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিল যে সে প্রেসিডেন্ট
হলে আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বকাপ নিয়ে যাবে, এর ফলে ব্লাটার আফ্রিকা মহাদেশের সকল দেশের
ভোট পায়। আফ্রিকার পরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হলো ক্যারিবিয়ান। এই অঞ্চলের ফুটবল
গডফাদার ছিল জ্যাক ওয়ার্নার। ব্লাটার জ্যাক ওয়ার্নারের পকেটে টাকা দিয়ে ক্যারিবিয়ান
অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোট কিনে নেয়, ফলে সেপ ব্লাটার অনায়াসে ফিফার প্রেসিডেন্ট
নির্বাচিত হয়। তারপর থেকে ব্লাটার তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটানা পাঁচবার ফিফার
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। সেপ ব্লাটার ফিফার প্রেসিডেন্ট হওয়ার মধ্য দিয়েই মূলত
ফিফা তার মাফিয়া বৃত্তির সবচেয়ে কালো অধ্যায়ে প্রবেশ করে।
ব্লাটার
ভোট কেনার সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেসব কাজ করতে শুরু
করে, এসময় বিভিন্ন দেশের ফুটবল উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য
ছিল সেপ ব্লাটারের ভোটারদের খুশি রাখা, কিন্তু এসব অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে
কিনা তার কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। হিসেব চাইতে গেলে সেপ ব্লাটার তার জনসমর্থন হারাতো।
ফিফার ব্যাপক দুর্নীতির মধ্যে তৎকালীন ফিফার জেনারেল সেক্রেটারি বহু অব্যবস্থাপনা এবং
আর্থিক হিসেবের অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর ফলে ফিফার ওপর অ্যাডিডাস মালিকানাধীন
আইএসএলের কর্তৃত্ব বন্ধ হয়ে যায়। আইএসএল ছিল মূলত ফিফার ব্যাংক, তাই আইএসএলের পতনের
পর ফিফা মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। তখন অবস্থা এত খারাপ হয়ে ওঠে যে ফিফা যদি কোনো
প্রাইভেট কোম্পানি হতো, তাহলে ওই মুহূর্তে ফিফা দেউলিয়া হয়ে যেত। এই দুঃসময়ে অর্থের
জোগান দিতে ফিফা বিশ্বকাপ আসর বিক্রি করতে শুরু করে, প্রতিটি দেশই বিশ্বকাপ আয়োজন করার
জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। কারণ এই অনুষ্ঠান আয়োজন করার মাধ্যমে যেকোনো দেশ তাদের ভাবমূর্তি
উজ্জ্বল করতে পারে, সেই সাথে বিশাল অংকের অর্থনৈতিক লাভ তো আছেই। তৎকালীন সময়ের অন্যতম
ফিফা মাফিয়া বস ক্যারিবিয়ানের জ্যাক ওয়ার্নার ২০১০ সালের বিশ্বকাপ আসর দক্ষিণ আফ্রিকায়
আয়োজন করার জন্য তদ্বির শুরু করে, বিনিময়ে সে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার
ঘুষ নেয়। ঘুষ ছাড়া জ্যাক ওয়ার্নার কোনো কাজ করে না। সে নিজের দেশ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড
টোবাগোকে বিশ্বকাপে খেলানোর জন্য নিজের দেশের খেলোয়াড়দের টাকাও মেরে দিয়েছিল। ফিফা
বিশ্বকাপ আসর বিক্রির নেশায় এতটাই মত্ত হয়ে ওঠে যে তারা একসাথে দুই বিশ্বকাপ আয়োজন
দেশ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। একসাথে ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক ঘোষণা দুর্নীতি আর
চুরির এক মহোৎসবে পরিণত হয়। সাধারণত যেসব দেশে খেলার জন্য সেরা স্টেডিয়াম, খেলোয়াড়দের
জন্য সেরা সুযোগ সুবিধা, দর্শকদের জন্য সেরা হোটেল আবাসন এবং যাতায়াত ব্যবস্থা থাকে,
সেখানেই বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এসব নিয়মের তোয়াক্কাই কেয়ার করে
২০১৮ সালে রাশিয়া এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপের জন্য কাতারকে নির্বাচন করা হয়। ২০১৮ সালের
জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী ছিল ইংল্যান্ড এবং ২০২২ সালের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র,
কিন্তু ফিফা সদস্যরা ঘুষ খেয়ে রাশিয়া এবং কাতারকে নির্বাচিত করে। রাশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা
এবং ফুটবল অবকাঠামো সেই সময়ে ভালো ছিল না। অন্যদিকে যখন কাতারের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল
তখন কাতারে কোনো ফুটবল স্টেডিয়ামই ছিল না।
ফিফার
মাফিয়া চক্রের আরেক মাফিয়া বস হলো মোহাম্মদ বিন হাম্মান। কাতারী এই ব্যক্তি ছিলেন এশিয়ান
ফুটবলের প্রধান। তিনি তার কূটনৈতিক ক্ষমতায় কাতারে বিশ্বকাপ আসর আয়োজনের ব্যবস্থা করেন।
মোহাম্মদ বিন হাম্মান আর ব্লাটার অতীতে বেশ ভালো বন্ধু ছিল। ১৯৯৮ সালে ব্লাটার মোহাম্মদ
বিন হাম্মানকে কথা দিয়েছিল যে সে শুধু দুই মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট হবে, কিন্তু ব্লাটার
তার কথা রাখেননি। তাই মোহাম্মদ বিন হাম্মান সেপ ব্লাটারের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
করার ঘোষণা দেয়। তখন সেপ ব্লাটার এবং মোহাম্মদ বিন হাম্মানের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব
শুরু হয়। একদিকে সেপ ব্লাটার তাকে ভোট দেওয়ার জন্য ফিফা সদস্যদের নানা রকমের সুযোগ
সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে থাকে। অন্যদিকে মোহাম্মদ বিন হাম্মান ভোট কেনার জন্য
জ্যাক ওয়ার্নারসহ বিভিন্ন সদস্যদেরকে মোটা অংকের ঘুষ দেয়। এক পর্যায়ে চাক ব্লেজার
নামের যুক্তরাষ্ট্রের এক ফিফা সদস্য এই ঘুষের বিষয়টি সবার সামনে নিয়ে আসে, প্রথমে চাক
ব্লেজারকে সবাই ভালো ভেবেছিল কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় চাক ব্লেজার আরেক মাফিয়া বস।
ফিফার সকল ধরনের অনুষ্ঠান এবং প্রজেক্টের জন্য চাক ১০ শতাংশ বা তারও বেশি অর্থ কমিশন
নিত, এসব অবৈধ টাকা দিয়ে চাক ব্লেজার নিউইয়র্কে অত্যন্ত বিলাসী জীবনযাপন করত। যুক্তরাষ্ট্রের
এফবিআই চাকের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে ফিফার বেশ কিছু অসংগতিপূর্ণ আর্থিক লেনদেনের
আলামত পায়। ফিফা সুইজারল্যান্ড অফিস থেকে অন্য কোনো দেশে টাকা পাঠানোর আগে তা আমেরিকার
ব্যাংক হয়ে অন্যান্য দেশে পাঠানো হতো, এরকম কয়েকটি লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে আরও
বহু অসংগতিপূর্ণ লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। সেসব ব্যাংক নথিতে বিভিন্ন জায়গা
এবং ব্যক্তির ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়। আর্থিক লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়াটা এত বেশি গোপনীয়
এবং রহস্যবৃত করে সম্পন্ন করা হতো যে সাধারণত বড় বড় মাদক চোরাকারবারি বা ড্রাগ কার্টেল
এবং মাফিয়ারা এভাবে কাজ করে থাকে। এফবিআই কর্মকর্তারা বলেন, ফিফার অপরাধ তদন্ত করতে
গিয়ে তাদের এতটাই বেগ পেতে হয়েছে যে কোনো মাফিয়াদের বিষয় তদন্ত করতেও তাদের এত হিমশিম
খেতে হয়নি। অবশেষে অসংখ্য তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে ২০১৫ সালের ২৭ মে ফিফার ১১ জন উচ্চপদস্থ
কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে এফবিআই, এরপর সব মিলিয়ে প্রায় ২৪ জনেরও বেশি ফিফা কর্মকর্তাকে
দুর্নীতির দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। কিন্তু এত সবের পরেও আসল ফুটবল গডফাদার সেপ
ব্লাটার তার গ্রেফতার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন, কিন্তু তাকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফুটবল সংক্রান্ত
সকল কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়। তারপর ফিফার তথাকথিত শুদ্ধি অভিযানের ফলস্বরূপ
ফিফা প্রধান নির্বাচিত হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো। বিশ্লেষকরা মনে
করেন, ফিফাকে আসলে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে যতই চেষ্টা করা হোক না কেন ফিফার দুর্নীতি
কিছুতেই বন্ধ করা সম্ভব নয়।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more