প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২১, ২০২৬, ৫:০০ এ.এম
ক্রিপ্টতে চলছে সব অবৈধ লেনদেন
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো এবার ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং উচ্চমাত্রার মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটাতে সিন্ডিকেটগুলো প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডিজিটাল মুদ্রা) এবং ডার্ক ওয়েবের মতো গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অস্থিরতা এবং টেকনাফের নাফ নদী থেকে শুরু করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগাচ্ছে এই চক্র। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই চক্রটি এখন কেবল ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস) কিংবা চোরাই সোনার চালানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা দেশে সরাসরি একে-৪৭ রাইফেল ও ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে তৈরি উন্নত পিস্তলের মতো সামরিক গ্রেডের অস্ত্র চোরাচালান করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মাঠ পর্যায়ের তদন্ত ও গোয়েন্দা নথি থেকে এই সিন্ডিকেটের কার্যপদ্ধতির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে: স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের ট্র্যাকিং এড়াতে চোরাচালানের মূল আর্থিক লেনদেন এখন চলে গেছে ডিজিটাল মুদ্রায়। স্থানীয়ভাবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে দ্রুত ক্রিপ্টোতে রূপান্তর করা হয় এবং তা দিয়ে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ও মাদক সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। 'মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মাঝেমধ্যেই আরাকান আর্মির মতো মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের অপহরণের যে খবর আসে, তার অনেকগুলোই আসলে সাজানো নাটক। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, অনেক ট্রলার মালিক ও মাঝি আসলে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে জড়িত। তারা সীমান্তে পণ্য খালাসের বাহক হিসেবে কাজ করেন, আর মূল লেনদেন সম্পন্ন হয় ভার্চুয়াল ওয়ালেটে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সীমান্ত বাহিনী তাদের তৎপরতা জোরদার করেছে। সম্প্রতি টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ির 'বাইশফারি' ও বালুখালী কাস্টমস ঘাট এলাকায় ১১ এবং ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ধারাবাহিক অভিযানে বড় ধরনের অস্ত্রের চালান জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে: একে-৪৭ অ্যাসাল্ট রাইফেল যুগোস্লাভিয়ার তৈরি ৯ এমএম টিটি পিস্তল বিপুল পরিমাণ তাজা গুলি ও সামরিক সরঞ্জাম এসব হাই-প্রোফাইল অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন সক্রিয় চোরাকারবারী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টেকনাফ ও কক্সবাজারের কিছু প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি এবং আঞ্চলিক মাফিয়া চক্রের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই সিন্ডিকেট এত দ্রুত ডালপালা মেলতে পেরেছে। এই রাজনৈতিক সুরক্ষার কারণে মূল হোতারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং সীমান্ত অঞ্চলটি একটি বিপজ্জনক অপরাধের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে। কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে, এই নতুন ধরনের হুমকি মোকাবেলা করতে কেবল দুর্গম পাহাড়ে টহল দিলেই চলবে না, বরং অপরাধীদের ভার্চুয়াল লেনদেন ট্র্যাক করতে সাইবার ফরেনসিকের আধুনিক ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more