প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২১, ২০২৬, ১:৫৫ পি.এম
ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস আলীকে গুমের স্বীকারোক্তি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের এক যুগ পর বেরিয়ে এলো গা শিউরে ওঠা চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক জবানবন্দি দিয়েছেন তার সাবেক বডিগার্ড ও সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। রোববার (২১ জুন, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে এই তথ্য ফাঁস করেন বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান নিজেই এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির বিবরণ দেন। তিনি জানান, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র্যটব সদরদপ্তর থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ এবং সাইফসহ তারা মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে অবস্থান নেন। গাড়িতে বসে জিয়াউল আহসান ক্রমাগত ফোনে যোগাযোগ করছিলেন এবং 'টার্গেট কখন আসবে' তা জানার চেষ্টা করছিলেন। তবে সেদিন মিশন সফল না হওয়ায় জিয়াউল আহসান বাসায় ফিরে যান। এর ঠিক পাঁচ দিন পর, ১৮ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশবাসী জানতে পারে যে মহাখালী এলাকা থেকেই নিখোঁজ হয়েছেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। সাক্ষী আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর ২৩ এপ্রিল তিনি যখন র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেন, তখন পুরো কার্যালয়ে এক থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছিল। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং প্রমাণ লোপাট করতে তৎকালীন এলিট ফোর্সটির সদরদপ্তরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজও ধ্বংস করে ফেলেন জিয়াউল আহসান। ইমরুল কায়েসের সাক্ষ্যে সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটে জিয়াউল আহসানের একটি গোপন ফোনালাপের সূত্রে। তিনি জানান, একদিন জিয়াউল আহসান ফোনে কথা বলার সময় আরেকটি ফোনে কল আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ফোন পেয়ে জিয়া অন্য ফোনটি কেটে দিয়ে বলেন, "তুই রাখ, তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।" এরপর দীর্ঘ ফোনালাপের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জিয়াউল আহসান বলে ওঠেন: "আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এরকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন।" জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড বা রানার হিসেবে প্রায় এক বছর তিন-চার মাস দায়িত্ব পালন করা এই সেনাসদস্য ট্রাইব্যুনালকে জানান, চোখের সামনে তিনি ভয়াবহ সব অপরাধ ঘটতে দেখেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জিয়াউল আহসান বিভিন্ন পন্থায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা বা গুম করেছেন। আদালতে এই রোমহর্ষক ও স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের পর নিজের জীবনের চরম ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আবেদন জানান সাক্ষী ইমরুল কায়েস। আদালত বিষয়টিকে আমলে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more