প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১:২৬ পি.এম
কিলিয়ান এমবাপ্পে এখন ফরাসিদের আসল নেতা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
বোস্টন স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সের কাচঘেরা ঘরে বসে যখন খেলা দেখছিলেন আঁতোয়ান গ্রিজমান, তখন তাঁর চশমার ওপারে খেলা করছিল ফেলে আসা সোনালি দিনের স্মৃতিকাতরতা। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর এই প্রথম ফরাসিদের কোনো ম্যাচ সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তাঁর চোখের সামনেই মরক্কোর রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে ফ্রান্স পৌঁছে গেল টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। অথচ এক সময় উগো লরিসের বিদায়ের পর ফরাসিদের দলপতির আর্মব্যান্ড গ্রিজমানের হাতেই ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ২৪ বছরের তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পের হাতে যখন নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়, তখন ফরাসি শিবিরে কম বিতর্ক ও মান-অভিমান হয়নি। আজ বোস্টনের বাতাসে সেই পুরনো সব অস্বস্তি ও বিতর্ক কর্পূরের মতো মিলিয়ে গেছে।
মরক্কোকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার রাতে ফরাসিদের প্রথম গোলটি এসেছে অধিনায়ক এমবাপ্পের পা থেকেই, যা চলতি বিশ্বকাপে তাঁর অষ্টম গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে গোলদাতার তালিকার শীর্ষে আরোহণ করেছেন এবং টানা দুটি বিশ্বকাপে ৮টি করে গোল করা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তবে এবারের বিশ্বকাপে ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের শরীরী ভাষা কেবল একজন গোলদাতার নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ ও পরিণত নেতার। ২০১৮ সালের বিশ্বজয়ী সেই চপল দলটির মধ্য থেকে এবারের স্কোয়াডে কেবল এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে অবশিষ্ট আছেন; এনগোলো কান্তে কিংবা লুকাস এরনান্দেজের মতো অভিজ্ঞরা চোটের কারণে দলের বাইরে। ফলে এই তরুণ ফরাসি দলটির জন্য এমবাপ্পে এখন কেবল আক্রমণের মূল অস্ত্রই নন, বরং একজন নির্ভরযোগ্য মেন্টর ও পথপ্রদর্শক।
অনেকেই এই দলটিকে আগের দুই বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি ভয়ংকর মনে করলেও এমবাপ্পে নিজে মাটিতে পা রাখছেন। বোস্টনের ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে তিনি সরাসরিই বলেছেন যে, তিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ও রানার্সআপ হওয়ার স্বাদ পেয়েছেন এবং বর্তমান দলটির বৈশিষ্ট্য আগের দুটির চেয়ে ভিন্ন। এটি তাঁর খেলা সেরা ফরাসি দল না হলেও এই দলটির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করেন। তবে সম্ভাবনা আর অর্জনের মাঝে যে বিস্তর ফারাক থাকে, তা ইউরো ২০২০-এ সুইজারল্যান্ডের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের স্মৃতি থেকে ভালোভাবেই জানেন এমবাপ্পে। তাই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, কেবল নিজেদের ক্ষমতা দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না এবং মাঠের আত্মবিশ্বাসকে প্রমাণ করতে হলে নিজেদের অপরাজেয় দাবি করার আগে মাঠেই তার প্রমাণ দিতে হবে। মাঠের বাইরে ও ভেতরে এমবাপ্পের এই পরিপক্বতা এখন ফরাসি দলের সবচেয়ে বড় বর্ম, যা এই তরুণ দলটিকে নিয়ে আবারও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more