প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ৪:৩৪ এ.এম
বিআরটি প্রকল্প বাতিল: হাজার কোটি টাকার অপচয়
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
সুদীর্ঘ ১৪ বছরের নানা অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থার পর অবশেষে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বহুল আলোচিত ঢাকা বিমানবন্দর-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় তৈরি হওয়া স্টেশন ও লেন বিভাজকগুলো ভেঙে ফেলে পুরো করিডরটিকে একটি সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। ২০১২ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর তিন দফায় বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে চতুর্থ দফায় প্রায় ৬ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার বর্ধিত প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। প্রকল্পটির অধীনে ইতোমধ্যে ২,৮১১ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেলেও বাস্তবে একটি বিশেষ বাসও রাস্তায় নামানো সম্ভব হয়নি। এডিবি ও ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার ঋণে পরিচালিত এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলাকালে অবহেলা ও দুর্ঘটনাবশত সাতজন মানুষের করুণ মৃত্যু ঘটে, যার মধ্যে ২০২২ সালে উত্তরার গার্ডার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু অন্যতম।
বিশ্লেষকদের মতে, বিআরটি প্রকল্পের এই চরম ব্যর্থতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ভুল পরিকল্পনা, অপরিপক্ক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং নীতিনির্ধারণী স্তরের চরম গাফিলতির ফল। কারিগরি সমীক্ষা অনুযায়ী, ডান দিকে দরজা বিশিষ্ট বিশেষায়িত বাস পরিচালনা এবং গাজীপুর থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে নেমে বাস বদলানোর বাধ্যবাধকতার মতো মৌলিক ত্রুটিগুলো শুরুতেই উপেক্ষিত ছিল। এছাড়া, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের তথ্যমতে প্রকল্পটির নির্মিত অবকাঠামো ভাঙতে এবং সড়ক পুনর্নির্মাণ করতেই অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে। বুয়েট বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনেও এই প্রকল্পকে একটি ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প বাতিলের এই বড় সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী না করে প্রকল্প অনুমোদন, নকশা প্রণয়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ব্যর্থতার পেছনে থাকা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জবাবদিহির আওতায় না আনলে সরকারি অর্থ ও ঋণের এমন অপচয় প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more