‘বিএনপি বদলে গেলেও জামায়াত কথা বদলাবে না’: ডা. শফিকুর রহমান
অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ৪:৪৬ এ.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ৪:৪৬ এ.এম
‘বিএনপি বদলে গেলেও জামায়াত কথা বদলাবে না’: ডা. শফিকুর রহমান
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
রাজনৈতিক অবস্থান বা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলেও নীতি ও প্রতিশ্রুতি থেকে জামায়াতে ইসলামী সরবে না বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বর্তমান সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্ত ও বিএনপি নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট জানান, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিরোধী দল রাজপথে ও সংসদে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাবে।
রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, মাওলানা মামুনুল হক, হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, ক্ষমতার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) দলীয়করণের প্রয়াস নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, পিএসসি কোনো রাজনৈতিক দল বা মন্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের এই মাধ্যমটিকে দলীয় ক্যাডার দিয়ে ভরিয়ে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় সরকারি দল কর্তৃক উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টন এবং রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। দেশের কোষাগারে থাকা অর্থকে জনগণের 'কমিউনিটি ফান্ড' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে অর্জিত সরকারি তহবিলে সব পেশা ও দলের মানুষের অধিকার রয়েছে। দলীয় বা রাজনৈতিক পছন্দের ভিত্তিতে উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ রাখা বা শর্ত জুড়ে দেওয়া অশালীনতা এবং এক ধরনের রাষ্ট্রীয় অপরাধের সামিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দলের নির্বাচিত আসনগুলোকে সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত রেখে আবারও বৈষম্যমূলক রাজনীতির চর্চা করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি জনগণের ভোটাধিকার, বৈষম্যহীন নতুন রাজনৈতিক ধারা এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্দোলন বা দাবির নামে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির প্রতি জামায়াতের অসম্মতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালি হাতে ঈমানি শক্তি ও দেশপ্রেম নিয়েই স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের মোকাবিলা করা সম্ভব। জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রাজপথে ও সংসদে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবেন এবং তরুণ সমাজকে সাথে নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা নতুন ফ্যাসিবাদের কাছে দেশকে সমর্পণ করা হবে না বলে তিনি সতর্ক বার্তা দেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more