বিস্কুটে পশুখাদ্যের ব্যবহার, প্রস্তুতকারকের বিরুদ্ধে মামলা
অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১:১৬ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১:১৬ পি.এম
বিস্কুটে পশুখাদ্যের ব্যবহার, প্রস্তুতকারকের বিরুদ্ধে মামলা
অ-অ+
বিডিফেস বিশ্ব: ভারতের জনপ্রিয় মারি বিস্কুট ব্র্যান্ড প্রিয়াগোল্ডের
প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সূর্য ফুড অ্যান্ড এগ্রোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ
নিয়েছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই)। বিস্কুট উৎপাদনে
পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুসি ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি
লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের মান
ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে উত্তর প্রদেশের
গ্রেটার নয়ডায় অবস্থিত সূর্য ফুডের কারখানায় আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হয়। এক গ্রাহকের
অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। এফএসএসএআইয়ের কর্মকর্তারা কারখানাটিতে বিপুল পরিমাণ ভুসির
বস্তা দেখতে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত এসব ভুসি মানুষের খাওয়ার
উপযোগী বিস্কুট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ ছাড়া কারখানার বিভিন্ন স্থানে কীটপতঙ্গের
উপস্থিতি, কাঁচামাল সংরক্ষণে অনিয়ম এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিও শনাক্ত করা হয়। এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির
লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা
করে গত ১৭ অক্টোবর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে
কর্তৃপক্ষ। এদিকে, একই ধরনের খাদ্যনিরাপত্তা অভিযানে ভারতের আরও কয়েকটি
প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তামিলনাড়ুর ইরোড জেলায় উয়ির অর্গানিক
ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শনে কিসমিসে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি কীটনাশকের
অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এফএসএসএআই। পরীক্ষায় অ্যাজোক্সিস্ট্রোবিন, ফলুওপিরাম, ইমিডাক্লোপ্রিড
ও থায়ামেথোক্সামসহ একাধিক কীটনাশকের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষাগারের ফল অনুযায়ী,
কিছু রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ অনুমোদিত মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় পণ্যগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা
নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ফুল ক্রিম দুধ উৎপাদনকারী ডোডলা ডেয়ারি লিমিটেডের
দুধের নমুনায়ও ত্রুটি পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় দুধে চর্বির পরিমাণ
নির্ধারিত মানের নিচে থাকার পাশাপাশি ডিটারজেন্ট ও কস্টিক সোডার উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি
চলছে। এ ছাড়া নারপাধাম ফুডস, সান রিজেস হেলথ কেয়ারার্স ও শাহ
কান্তিলাল জয়ন্তীলালকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এফএসএসএআই। খাদ্যপণ্যে ভেজাল, অনিরাপদ উপাদান এবং উৎপাদন ও সংরক্ষণে
অনিয়ম ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়
খাদ্যনিরাপত্তার নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more