রাশিয়ার সঙ্গে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেই রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছে ইউক্রেন। জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পদচ্যুত করার পর সৃষ্ট তীব্র অসন্তোষ ও টানা বিক্ষোভের মুখে সেনাপ্রধানকে অবশেষে সরিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধরত এই দেশটিতে চলমান সংকট ও জনরোষ প্রশমিত করতে এই পদক্ষেপে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন সদ্য সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। গত সপ্তাহে তাঁকে অপ্রত্যাশিতভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। পদচ্যুত হওয়ার ঠিক আগে ফেদোরভ তৎকালীন সেনাপ্রধানের প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, সেনাপ্রধান তাঁর সংস্কার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন। ফেদোরভের মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সামরিক কার্যক্রমে প্রযুক্তিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। তবে তাঁর অভিযোগ ছিল, তুলনামূলক 'প্রাচীনপন্থী' হিসেবে পরিচিত সামরিক নেতৃত্ব নানা অজুহাতে আধুনিকায়নের এই কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে ফেদোরভকে সরানোর পর রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সেনাপ্রধানের অপসারণ এবং সামরিক কৌশলে অধিকতর জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে আসছেন।
তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে সম্প্রতি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওই বৈঠকে জেলেনস্কি ফেদোরভকে ইউক্রেন সরকারে একটি 'সম্মানজনক পদে' দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই পদটি দেশের প্রযুক্তি খাতকে একক কাঠামোর আওতায় ঐক্যবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে জেলেনস্কির এই প্রস্তাব ফেদোরভ চূড়ান্তভাবে মেনে নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তখন নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি বার্তা সংস্থা এপি।
রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের এমন পালাবদলের নেপথ্যে রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান ভয়াবহতা ও হতাহতের উচ্চ হার। দেশজুড়ে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান দানিয়েল বেল জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ইউক্রেনজুড়ে মোট ১ হাজার ৩৯৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও ৭ হাজার ৯৭৮ জন বেসামরিক নাগরিক। এমন চরম মানবিক সংকটের ভেতর সেনাপ্রধানের এই পরিবর্তন যুদ্ধরত দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা কাটছে না।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more