বাউফলে ফাজিল পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর
অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১২:২২ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১২:২২ পি.এম
বাউফলে ফাজিল পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে ধানদী কামিল মাদ্রাসার ফাজিল পরীক্ষা কেন্দ্র ঘিরে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আপ্যায়নে নিয়মিত বিশেষ খাবারের আয়োজন, সিসিটিভি ক্যামেরা চুরি এবং প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে আরবি পরীক্ষার সময় কেন্দ্র পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। এর আগের দিন রোববার বাংলা ও ইসলামিক স্টাডিজ পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অন্য একজন অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট, হল সুপার এবং বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে আসা অধ্যক্ষ ও প্রভাষকদের আপ্যায়নের জন্য দুপুরে দেশি মুরগি, খাসির মাংস, চালের রুটিসহ বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া হল সুপার নিয়োগ একাধিকবার পরিবর্তনের সময় হলের পক্ষে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। তবে এ অর্থ কারা নিয়েছেন এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধানদী কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেশবপুর ফজলুল হক ফাজিল মাদ্রাসা, নুরাইনপুর ফাজিল মাদ্রাসা, ধানদী কামিল মাদ্রাসা ও পোনাহুরা মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
কেন্দ্রের নিচতলার উত্তর পাশের টিনশেড ভবনের পশ্চিম দিকে ২ নম্বর কক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরা চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার এক কর্মচারী। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী দাবি করেছেন, ওই কক্ষের কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে বলা হচ্ছে। এ দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া বিভিন্ন মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণের সময় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে অনানুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তবে কতজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত রোববার এক অন্তঃসত্ত্বা পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অন্য একজন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পরীক্ষার্থীর সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ কাছাকাছি হওয়ায় তাঁর পরিবর্তে অন্য একজন পরীক্ষা দেন। তবে অভিযোগটি যাচাই করতে পরীক্ষার্থীর উপস্থিতিপত্র, প্রবেশপত্র, কক্ষ পরিদর্শকের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন বলেন, “পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আমরা কক্ষে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবশিষ্ট সময়ে সিসিটিভি মনিটরের সামনেও বসে পরীক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করি। কোনো অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা ধরা পড়েনি।” মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবউল্লাহ বলেন, “শতভাগ ভালোভাবে পরীক্ষা হয়, তা বলা কঠিন। তবে পরীক্ষা পরীক্ষার মতোই হচ্ছে। একজনের পরিবর্তে অন্যজন পরীক্ষা দিচ্ছেন কি না, তা কক্ষ পরিদর্শকের পক্ষে শনাক্ত করা সম্ভব। প্রায় সাড়ে চারশ পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র একে একে পরীক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে জানানো হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়ম হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শক, হল সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more